দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে হত্যা মামলার পলাতক আসামি বগুড়ার বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ও কাউন্সিলর আবদুল মতিন সরকারের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২২ জুন) দুপুর তিনটার দিকে তাকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ হাজির করা হয়। শুনানিকালে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে নেয়ার সময় তার উপরে ডিম নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।
আবদুল মতিন সরকার বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমান সরকারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা ছাড়াও অস্ত্র, মাদক আইনেও ডজন খানেক একাধিক মামলা রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন করে একাধিক হত্যাসহ আরও ডজন খানেক মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
বগুড়া আদালত পরিদর্শক ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মতিন সরকারকে আদালতের হাজির করে ্মাগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার (৭৩৭/২৪) তদন্তকারী কর্মকর্তা রোববার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিকেলে আবেদন শুনানী শেষে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
উল্লেখ, বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা শনিবার (২১ জুন) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বছিলার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এর আগে দুদকের করা মামলায় চলতি বছরের ১১ মার্চ বগুড়ার বিশেষ জজ আদালতে আবদুল মতিন সরকারকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অপরাধে তাকে ২ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৩১৫ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ড ছাড়াও আবদুল মতিন সরকারের অবৈধভাবে অর্জিত ২ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৩১৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। আবদুল মতিনের অনুপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করা হয়।
গত ২০১৫ সালের দিকে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড করার অভিযোগে আব্দুল মতিন সরকারকে শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
Leave a Reply