নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার বিষমুক্ত আলু বিশ্বের ৭টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। চলতি বছর বগুড়া অঞ্চল থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বিষমুক্ত আলু নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংঙ্কা, সৌদি আরব ও দুবাই রফতানি হচ্ছে।
গত বছর ১৪ হাজার মেট্রিক টন আলু বিদেশে রফতানি হলেও এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে ১২ লাখ মেট্রিন টন আলু উৎপন্ন হয়েছে। উৎপাদিত আলু রাখার জন্য জেলায় ৩৬টি আলু হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে আলুর ধারণ ক্ষমতা ৩ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন।
মহাস্থান হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি পাকড়ি আলু প্রতি মণ ৫৫০ টাকায়, গ্রানুলা ৩৫০ টাকায়, অ্যাসটরিক ৪৮০ টাকায় কিনে রফতানির জন্য মোড়কজাত করা হচ্ছে। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মেসার্স সাগর ট্রেডার্স ১১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রফতানি করছে।
এছাড়া জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা থেকে আরেকটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি করছে।
শিবগঞ্জের সাগর ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাগর হোসেন ফকির জানান, বেসরকারি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মাসওয়া অ্যাগ্রো লিমিটেড ও বায়রন অ্যাগ্রো কম্বাইন লিমিটেডের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলংকায় গ্রানুলা, অ্যাসটরিক, দেশি পাকড়িসহ কয়েকটি জাতের আলু পাঠানো হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মোজাহিদ সরকার জানান, কয়েক বছর ধরে শিবগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আলু রফতানি করে আসছে। সাগর ট্রেডার্স এ বছর ২৮ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি করার কথা। এরই মধ্যে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বগুড়া কৃষি বিপণন অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. শামসদ্দীন সোহেল বলেন, কয়েক বছর ধরেই বগুড়া থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও আরব আমিরাতে আলু রফতানি করা হচ্ছে। এ বছর রফতানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে মার্চ পর্যন্ত জেলার শিবগঞ্জ, সদর ও শেরপুর উপজেলা থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানি করা হচ্ছে।
Leave a Reply