বগুড়ায় মানিকের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে শহরের কানুছগাড়ী এলাকার মোঃ ঝিনুক। রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে গত ১৫ মে শহরের কানুছগাড়ি এলাকার মানিক ও পান্না আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেছে আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত এক বক্তব্যে ঝিনুক বলেন, মানিক ও পান্না মূলত নিজেদের অপরাধকে আড়াল ও দায়মুক্ত করতেই তারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এই মানিক, পান্না, পান্নার স্ত্রী, দুই ছেলে রাজিব এবং জীবন ও মানিকের মেয়ে মৌমিতা, বহু আগে থেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল। বিগত সময়ে জেলা কৃষকলীগ এর সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক মঞ্জু ও পান্নার বড় ছেলে জেলা কৃষকলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক রাজিবের মদদে তারা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসছিল এবং রাজিবের স্ত্রী মাদক মামলায় জেল খেটেছে। এদের নামে ৪/৫ টি মাদক মামলা এখনো চলমান আছে, তাছাড়া পান্নার ছোট ছেলে বিগত তিন মাস আগে মাদক মামলায় ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিল এবং সে একজন অস্ত্রধারী ক্যাডার। কৃষকলীগ নেতা মুঞ্জু মানিকের বাসাতেই বসবাস করে আসছে। এমনকি সরকার পতনের পরেও তারা আগের ন্যায় ব্যবসা করতে থাকায় আমি সহ এলাকাবাসীরা বাধা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে তারিখে মাদক বিক্রয়কালে দুপুরের দিকে আমি তাদের বাধা প্রদান করি। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে এবং এরই অংশ হিসেবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তারা দলবদ্ধ হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মটকা হোটেলে এসে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর এবং চাকু দ্বারা মাথায় আঘাত করে। এছাড়াও হোটেলে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়, ক্যাশবাক্সে রক্ষিত ৭৫ হাজার ৩শত টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই হামলার সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। যার কারনেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। যদি আমরা অপরাধী হতাম তাহলে পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতো।
তিনি আরও বলেন, আমি ২০২৩ সাল থেকে এই দোকানের ট্রেড লাইসেন্স করে ব্যবসা করে আসছি। আর তারা দোকান এর মালিকানা নিয়ে যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন ও মনগড়া। এই সম্পত্তি তাদের নয়, এটা আমার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি। তাদের বাবা তাদের ৩ শতক সম্পত্তি তাদের বোন বাবলী আকতারের নামে লিখে দিয়েছে এবং সেটারই একটি দোকান পান্না নিকট হতে সজিব ভাড়া নিয়ে ঔষধের ব্যবসা করে। আপনারা সরেজমিনে গেলেই প্রমান পেয়ে যাবেন।
ঝিনুক বলেন, আপনারা এই মানিক ও পান্নার বিষয়ে একটু খোজ নিলেই জানতে পারবেন এরা এলাকায় কতটুকু মাদক ব্যবসা প্রসারিত করে যুব সমাজকে ধংবস করছে। আমি বাধা দেওয়ার কারনেই প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে তারা আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি দীর্ঘদিন থেকে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম এবং এখন বগুড়া জেলা যুবদলের সদস্য হিসেবে শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি করে আসছি। তারা নিজেদের কুকর্ম ঢাকতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দ্য প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সেই সাথে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবি জানাচ্ছি। এসময় ঝিনুকের স্ত্রী মিনা বেগম, ছেলে মুহিব হাসান উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply