নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় গত ৭ দিনে স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে, দুই যুবকের এবার স্কুল ছাত্রকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের হত্যা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় স্কুলছাত্রসহ তিনজন হতঢাকান্ডে শিকার হয়েছে। রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের সুতানারা নামক পাথারে স্কুল ছাত্রকে হত্যা করেছে।
নিহতের স্কুল ছাত্রের নাম জিসান বাবু। সে ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের হটিয়ারপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রবিউল ইসলাম।
রোবার সকালে সদর উপজেলার সাবগ্রাম কুরশা এলাকা থেকে ইজিবাইক ছিনতাই করে চালক সম্রাট ইসলাম(৩৫)কে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে যায় দুবৃত্তরা। সে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া শনিবার রাতে ২৯ মামলার আসামি সাবেক যুবদল নেতা
ব্রাজিল(৩০) কে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। জিসানের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে বগুড়ায় ২৪ ঘন্টায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।
ওসি রবিউল ইসলাম জানান, সুতানারা এলাকায় পাথার থেকে এক স্কুল ছাত্র কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ছাত্র মগে পাঠানো হবে।
হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলে থানা ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সৈকত হাসান বলেন, নিহত স্কুল ছাত্রের গলায় আঘাতের চিহ্ন আছে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতও রয়েছে। এছাড়া মরদেহের মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
গত ২ জুন বগুড়া শহরতলীর বনানী এলাকায় শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেলে সেনা সদস্য বেড়ানোর কথা বলে তার স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করে। সন্তানের বিচ্ছিন্ন মাথা করতোয়া নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছে। ডুবুরি দিয়ে ৬ ঘন্টা নদীতে অভিযান চালিয়েও সন্তানের সেই মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে মাথা ছাড়া নিহত এক বছরের পুত্র সন্তানকে দাফন করতে হয়েছে।
বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর) শারাফত ইসলাম জানান, অতীতের সকল হত্যাকান্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চলমান হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
বগুড়ায় একের এক নিংশস হত্যাকান্ড বগুড়াবাসীকে গভীর ভাবে ভাবিয়ে তুলছে। এমন হত্যাকান্ড সংঘটিত হলে রাস্তা ঘাটে চলাচল করা এমনকি ঘরে থাকাও অনিরাপদ বোধ করছেন।
Leave a Reply