নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ কেটে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ কয়েদী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার মোঃ ফরিদুর রহমান রুবেলকে স্ট্যান্ড রিলিস করা হয়েছে। সোমবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলি করা হয়।
অপর আরেকটি প্রজ্ঞাপনে রাজবাড়ী জেলা কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফকে বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার মোঃ ফরিদুর রহমান রুবেলকে খুলনা জেলা কারাগারের অনুকূলে সংযুক্ত কারা উপ-মহাপরিদর্শকের দপ্তর, রাজশাহী বিভাগে উপ-তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বদলির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে বদলিকরত সংযুক্ত করা হলো।
বগুড়া কারাগার থেকে কয়েদী পালানোর ঘটনায় এর আগে ডেপুটি জেলার হাসানুজ্জামান ও প্রধান কারারক্ষীসহ ৫জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
সাময়িক বরখাস্তরা হলেন- ডেপুটি জেলার হাসানুজ্জামান, সর্ব প্রধান কারারক্ষী ফরিদ উদ্দিন, প্রধান দুই কারারক্ষী দুলাল মিয়া ও আব্দুল মতিন এবং কারারক্ষী আরিফুল ইসলাম।
এছাড়া বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে প্রধান কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম, সহকারী প্রধান কারারক্ষী সাইদুর রহমান ও কারারক্ষী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘটনার পর বগুড়া কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকি মনে করে, মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং জেএমবি সদস্যদের রাজশাহী কারাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে বগুড়া কারাগারের সুপার আনোয়ার হোসেন কে সরকারি নম্বরে মোবাইলের কল দিলে রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ, গত ২৬ জুন বগুড়া কারাগারের কনডেম সেলের ছাদ কেটে থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ কয়েদির পলায়নের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ছাদ কেটে রশির মাধ্যমে তারা পলায়ন করেন৷ পরে পুলিশ রাতে ৪ টায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা হলো, স্কুল ছাত্র নাঈম হত্যা মামলার আসামী জেলার কাহালু পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানের ছেলে জাকারিয়া (৩১)( কয়েদি নং ৩৬৮৫), কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা এলাকার নজরুল ইসলাম মজনু( কয়েদি নং ৯৯৮), নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার ফজরকান্দি এলাকার আমির হোসেন( কয়েদি নং- ৫১০৫), এবং বগুড়ার কুটুরবাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ফরিদ শেখ( কয়েদি নং- ৪২৫২) ।
পরে ৪ কয়েদিদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারা কতৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে এডিএমকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Leave a Reply