নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, সংগীত শিল্পী, কবি ও প্রাবন্ধিক মরহুম ডা: আর এ এম তারেক(৭৮) জানাযা নামাজ শনিবার সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে তিনি শুক্রবার বিকেল ৫ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার চাকলমা পুর্বপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে ভাই ভাতিজাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। ৫ ভাইয়ের মধ্যে ডাঃ তারেক ছিলেন চতুর্থ। ডাঃ তারেকের মৃত্যুতে নিজ এলাকা এবং বগুড়া শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম ডাঃ তারেকের জানাযা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পুর্ন করা হয়েছে। তার জানাযা নামাজে ইমামতি করেন ভাতিজা মোঃ সাকিব শাহরিয়ার।
মরহুমের জানাযা নামাজের পুর্বে বক্তৃতাকালে ডাঃ তারেকের খ্যাত, যশ, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সবাই স্বীকার করে বলেছেন, অত্র এলাকার মানুষ একজন ভালো চিকিৎসককে হারাল। সাথে সাথে এখানকার মানুষরা ডাঃ তারেকের মতো আর কাউকে পাবে কিনা তাতে সন্দেহ আছে। ডাঃ তারেকের মানুষ বর্তমান সমাজে বিরল। তিনি শুধু চিকিৎসা সেবা দিয়েই মানুষের উপকার করেননি। ভালো ব্যবহার, সকল বিষয়ে ভালো পরামর্শ দিয়েছেন।
মরহুমের কুলখানি আগামী শুক্রবার ১৪ মার্চ ইফতারের সময় নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। সে কুলখানিতে সকল আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিত জনদেরকে দাওয়াত করেছেন ডাঃ তারেকের ভাতিজারা।
স্বনামধন্য ডাঃ তারেকের মৃত্যুতে বগুড়ার বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ গভীর শোক ও সমাবেদনা জানিয়েছেন।
ডা: তারেক ছিলেন বগুড়ায় জাতীয় কবি নজরুল পরিষদ ও নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাই তার হাত যশ ছিলো বিস্ময়কর। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য কর্মের ওপর তিনি অগাধ পান্ডিতের অধিকারি ছিলেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্র সচল রাখার জন্য মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ডাঃ তারেক শুধু চিকিৎসা এবং নজরুল গবেষণাই করেননি। তিনি
বগুড়ার বহু সাংস্কৃতিক কর্মীর প্রতিষ্ঠাতা, গোপন সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তার কথাবার্তায় বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সরকারি উদ্ধর্তন কর্মকর্তার মন জয় করেছেন এবং গুনিজন হিসেবে সহজেই স্থান পেয়েছেন। বহু গুনেগুণান্বিত ব্যক্তি ডাঃ তারেক কাউকে অসম্মানিত করতেন না। ছোট্ট বড় সবাইকে স্নেহময় ও সম্মান দিয়ে কথা বলেছেন।
প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডাঃ তারেক দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া শহরে বসবাস করেছেন। শহরের নবাববাড়িতে ইয়াছিন প্লাজায় ডাঃ তারেকের চেম্বার ছিলেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমাবেদনা জানিয়েছেন, বগুড়া হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম মিল্লাত হোসেন, বগুড়া ডিএইচএমএস হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডাঃ হুমায়ুন কবির, সাধারণ ডাঃ লিটন, ডাঃ শাহগাজী, ডাঃ আতিকুর রহমান সুমন, আসম সাহাবুদ্দিন আহমেদ, ডাঃ সাইফুল ইসলাম মন্ডল, ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী খুরশিদ আলমের ভাই মুরশীদ আলম, সিনিয়র সাংবাদিক মীর্জা সেলিম রেজা, সাংবাদিক মোহন আখন্দ, বগুড়া জেলা জাতীয়পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজ আহমেদ রুবেল, এ্যাড রহিমা খাতুন, এ্যাড শিল্পী আকতার, বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক প্রমুখ।
Leave a Reply