1. admin@bogurapost.com : admin :
থ্যালাসেমিয়া কেন হয়? প্রতিকার ও হোমিও চিকিৎসা - BoguraPost
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়ায় ‘নতুন কুঁড়ি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ৭ম ম্যাচ অনুষ্ঠিত গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ওসির পর সরানো হলো ডিসিকেও আওয়ামী লীগ পালানোর মতো জায়গা পেলেও বিএনপি পালানোর জায়গাও পাবে না, বগুড়ায় নাযেবে আমীর  বগুড়ায় ৫৩ তম জাতীয় ক্রীড়া সমিতির ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ বগুড়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ঠনঠনিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ১২ নভেম্বর থেকে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি বগুড়ায় ৫৩ তম জাতীয় স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু প্রবীণ হিতৈষী সংঘ বগুড়া জেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সভা ও কমিটি নির্বাচন প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আনা হচ্ছে ইলিশ মাছ সংসদে কিছু করতে না পেরে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি : বগুড়ায় জামায়াত আমির 

থ্যালাসেমিয়া কেন হয়? প্রতিকার ও হোমিও চিকিৎসা

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১১ মে, ২০২৪
  • ৮১২ বার

 

ডাঃ মোঃ আলমগীর হোসেন
ডিএইচএমএস,বিএইচবি (ঢাকা)
চেম্বার : তারা হোমিও ক্লিনিক
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী সুপার মার্কেট, ষ্টেশন রোড, বগুড়া। ০১৮৬০-৩৩১৯২০

থ্যালাসেমিয়া রক্তের এমন একটি মারাত্মক রোগ যা শিশুরা বংশগতভাবে তাদের পিতা- মাতা থেকে পেয়ে থাকে। রক্তে যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকে তাহলে থ্যালাসেমিয়া হয়। এর ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৪ জনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা দেড় থেকে ২ কোটি বলে মনে করা হয়। প্রতি বছর নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ হাজার। তবে সচেতনতার অভাব ও শনাক্ত না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ রোগের বাহক ও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

থ্যালাসেমিয়া কী:

১৯২৫ সালে আমেরিকার টমাস কুলি ও পারোল লি এই রোগটি চিহ্নিত করেন। ‘থ্যালাসেমিয়া’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। গ্রিক শব্দ ‘থালসা’ এর ইংরেজি শব্দ ‘রক্তাল্পতা’ সহযোগে থ্যালাসেমিয়া শব্দটি তৈরি। ‘থালসা’ অর্থ ভূমধ্যসাগরীয় এবং এ্যানিমিয়া অর্থ ‘রক্তাল্পতা’। ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের দেশগুলোতে প্রথম এ রোগ আবিষ্কার হয় বলে এর নামকরণ হয় থ্যালাসেমিয়া। ভূমধ্যসাগর ছাড়া আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

কারণ : ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জীনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়। ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জীন হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশে ত্রুটি সৃষ্টি করে। ফলে লোহিত রক্তকণিকার আয়ু স্বাভাবিক ১২০ দিন থেকে কমে মাত্র ২০-৬০ দিনে নেমে আসে। অপরিপক্ক লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনের দরুণ রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। বাবা অথবা মা, অথবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জীন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। বাবা-মা দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে শিশুর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে ভূমিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%, বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ৫০% আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা ২৫%। ভাই-বোনের (চাচাতো, মামাতো, খালাতো, ফুফাতো) মধ্যে বিয়ে হলে এবং পরিবারে কারো থ্যালাসেমিয়া থাকলে সন্তান-সন্ততির থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত বা বাহক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

প্রকার : থ্যালাসেমিয়া প্রধানত ২ ধরনের। যথা- আলফা এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া। ১৬ নম্বর ক্রোমোসমে উপস্থিত ত্রুটিপূর্ণ আলফা গ্লোবিন চেইন উৎপাদনকারী জীনের ত্রুটির দরুণ আলফা থ্যালাসেমিয়া এবং ১১ নম্বর ক্রোমোসমে উপস্থিত ত্রুটিপূর্ণ বিটা গ্লোবিন চেইন উৎপাদনকারী জীনের ত্রুটির দরুণ বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়।

লক্ষণ: বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে জন্মের ২-৩ বছরের মাঝে লক্ষণ প্রকাশ পায়।

জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণে শিশুদের জন্ডিস হতে পারে এবং তাদের ত্বক ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া হলে অনেক বেশি পরিমাণে তন্দ্রা লেগে থাকা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ার কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে।

হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।

থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।

অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইনফেকশন বা সংক্রমণে সহজেই প্রভাবিত হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

প্রতিরোধের উপায়

একটু সচেতন হলেই আমরা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী বা বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

পৃথিবীর অনেক দেশে, যেমন—সাইপ্রাস ১৯৭৩ সালে, বাহরাইন ১৯৮৫, ইরান ২০০৪, সৌদি আরব ২০০৪ এবং সর্বশেষ পাকিস্তান ২০১৩ সালে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর বা বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর থ্যালাসেমিয়া আছে কি না তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে থ্যালাসেমিয়া রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।যে কেউ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই জানা যায় কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না। বাবা ও মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলেই কেবল সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একজন বাহক এবং অপরজন সুস্থ এমন দুজনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হলে সন্তানদের কোনো সমস্যা হবে না।

হোমিও স্পেশালিষ্টদের মতে, শতকরা ৫০ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগীকে হোমিওচিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি রোগ মুক্ত করা সম্ভব। আর অবশিষ্ট থ্যালাসেমিয়া রোগীরা পুরা পুরী রোগমুক্ত না হলেও হোমিওচিকিৎসায় তাদের অবস্থা এতটাই উন্নত হয় যে, অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিলে মাসে বা বছরে একবার রক্ত নিলেই চলে।

হোমিওপ্যাথিতে মনো-দৈহিক গঠনগত চিকিৎসা কন্সটিটিউশনাল নামে এক ধরণের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত আছে যার অর্থ হলো রোগের লক্ষণ, রোগীর শারীরিক লক্ষণ, রোগীর মানসিক লক্ষণ, রোগীর বংশগত রোগের ইতিহাস ইত্যাদি বিচার করে ঔষধ নির্বাচন করা ।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রে রোগ নয় রোগীর চিকিৎসা করা হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগীর লক্ষণ ভেদে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে এসব রোগীদের ক্ষেত্রে যে সব ঔষধ ব্যবহার করে থাকে, সিয়ানোথাস, এসিড সালফ, ফেরাম মেট, আর্সেনিক এল্ব, অ্যান্ড্রাগ্রাফিস, চায়না, কার্ডুয়াস মেরী, ক্যালকেরিয়া ফ্লোর, ইউক্যালিপটাস, আলফালফা, থুজা, মেডোরিনাম।

রোগীকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় থ্যালাসেমিয়া রোগী সুস্থ হয়ে যাবে ইন্নশা আল্লাহ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ নিজে নিজে সেবন করা থেকে বিরত থাকবেন।

দয়া করে শেয়ার করুন


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Deprecated: Function WP_Query was called with an argument that is deprecated since version 3.1.0! caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews