গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়েন নাজিউর রহমান নাজির। তিনি সিগন্যাল উপেক্ষা করে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক জয়নাল আবেদীন তাঁর রিকশাটি আটকে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাজিউর রহমান নাজির রিকশা থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জয়নাল আবেদীনের ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অসংখ্য মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করে এবং ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি করে।
শুক্রবার বিকেলে বিএনপি নেতা নাজিউর রহমান নাজির শাজাহানপুর উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে যানজটে আটকা পড়েন। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে অনুরোধ করেন রিকশাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্য জয়নাল আমার মেয়ের সামনে আমাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করেন। এতে মেয়ের সামনে নিজেকে অপমানিত বোধ করি এবং উত্তেজিত হয় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করি, যা মোটেও ঠিক হয়নি।
বগুড়া সদর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী টাউন উপপরিদর্শক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ দেখেছেন। আমরা ৩ জন ট্রাফিক ডিউটি করছিলাম। আমরা শান্ত ছিলাম। স্থানীয় লোকজন ভিডিও করেছেন এবং তাঁরাই তাঁকে নিবৃত করেছেন।
শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাশফিকুর রহমান মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দলীয় শৃংঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় মোঃ নাজিউর রহমান নাজির, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক কে বগুড়া জেলা বিএনপির নিদের্শে শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপি সিন্ধান্তক্রমে তার প্রাথমিক সদস্যসহ সকল প্রকার দলীয় পদ থেকে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে।
Leave a Reply