নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়া এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ মিঠু, ছোট ভাই জেলা পরিষদ সদস্য, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু ও বর্তমান কাউন্সিলর,বিএনপি নেতা শাহ মোঃ মেহেদী হাসান হিমুসহ ১৩ জনের নামে এবং ১৪ / ১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সদর থানায় নিহত শরিফ শেখের মা হেনা বেগম বাদী এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ জোড়া হত্যা মামলা ৩ অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জোড়া হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারীরা সারাদিন স্বাভাবিক ভাবে প্রকাশ্য থাকলেও তারা অধরা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, নিশিন্দারা খাঁপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে শেখ সৌরভ (২৬), একই এলাকার পুর্বপড়ার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নাঈম হোসেন (২৮), সুলতানগঞ্জ আলী সোনার লেনের ইসমাঈল হোসেনের ছেলে আজরিন রিফাত (১৯)। বুধবার ভোরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওয়ালিউল্লাহ সাইহান।
ওসি আরও জানান, ঈদের রাতে পূর্ব পরিকল্পনা মতে শহরের নিশিন্দারা এলাকায় পরিচিতি জনকে দিয়ে মোবাইল ফোনের শরিফ ও রুম্মানকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। এরপর দুইজনকে সামান্য দুরত্বে দুই স্থানে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে অভিযুক্তরা বীর দর্পে স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় হোসেন নামে আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড গুলির খোষা উদ্ধার করা হয়েছে।
দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু, তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সার্জিল আহমেদ টিপু, তৃতীয় বর্তমান কাউন্সিলর ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বগুড়া শাখার সাবেক সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমু ও তাদের সহযোগী ১৩ জনের নামে ১৪/১৫ জন অজ্ঞাত আসামী করে জোড়া হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এক বছরের মধ্যে রাজশাহী রেঞ্জের চার বারের শ্রেষ্ঠ পরিদর্শক বগুড়া সদর থানার ( তদন্ত) শাহিনুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, হত্যাকান্ডের কারণ সম্পর্কে জানতে গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে না হলে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। এ জোড়া হত্যা মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ জোড়া হত্যাকান্ডে মুল পরিকল্পনাকারী দুই ভাই মঙ্গলবার সারাদিন প্রকাশ্য স্বাভাবিক কাজ কর্ম পরিচালনা করেছেন। তাদেরকে কেন গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি অভিযোগ নিহতদের স্বজনদের।হত্যাকান্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করে আসছিল নিহতদের স্বজনরা। স্বজনদের সেইসব বক্তব্য টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়ে আসা শর্তেও কেন তাদেরকে গ্রেফতার বা আটক করেনি পুলিশ। যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা মিঠু, টিপুদের সহযোগী। তারা যদি রাতের মধ্যে গ্রেফতার না হয়ে থাকে, শুভংকরের ফাঁকি হবে।
উল্লেখ, চলতি মাসের গত দুই সপ্তাহে পৃথক স্থানের দুই জোড়া হত্যা, ২৪ ঘন্টায় শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ ৩ জন মোট জেলায় ৮ জন নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। একটি হত্যাকান্ড বাদে সব হত্যাকান্ডে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং নিহতদের শরীরের একাধিক স্থানে নিমর্মভাবে আঘাত করা হয়েছে। এ জোড়া যুবক হত্যাকান্ডের পাশাপাশি আলোচিত ছিল সেনা সদস্য স্বামী কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ও ১১ মাস বয়সের ছেলে সন্তানকে জবাই করে হত্যা। সন্তানের বিচ্ছিন্ন মাথা করতোয়া নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছে। সেই মাথার সন্ধান করতে রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এসে ৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়েও উদ্ধার করতে পারেনি। সেই মাথা ছাড়াই ফুটফুটে শিশুকে দাফন করতে হয়েছে।
Leave a Reply