চলতি রবি শস্য মৌসুমে বগুড়ার কাহালুতে বুকভরা স্বপ্নে চাষিরা দিনভর আলুর গাছ পরিচর্যায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই জমিতে বছরে রোপা আমন ও ইরি বোরো ধানের আবাদ হলেও সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বাড়তি ফসল হিসেবে রবি শস্য মৌসুমে কৃষকরা আলু ও সরিষা চাষ করে থাকেন।
হেমন্ত কালে রোপা আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই চাষিরা রবি শস্য চাষে ঝুঁকে পড়েন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে জমিতে আলু বীজ রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় এবার আলু আবাদে কিছুটা সময় ক্ষেপন হয়েছে বলে জানান আলু চাষিরা।
কাহালু উপজেলার চাষিদের উৎপাদিত আলু বীজ আগে থেকেই হিমাগারে সংরক্ষণ থাকায় আলু বীজ রোপণের সময় বীজ আলুর খুব একটা সংকট দেখা না গেলেও বাজারে হঠাৎ করে বীজ আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েন আলু চাষিরা। আলু বীজ রোপনের একমাস পূর্বে হিমাগার থেকে বীজ আলু উত্তোলন করে অংকুর উদ্গমের জন্য অত্যন্ত যত্ন সহকারে বাড়িতে সংরক্ষণ করা হয়। আলু বীজের অংকুর গজালে সেগুলো জমিতে রোপণ করা হয়। ১ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতে ১শ থেকে ১২০ কেজি আলু বীজের প্রয়োজন হয়।
রোপণের দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আলু গাছ মাটি ভেদ করে বের হলে জমিতে রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগ করে আলু গাছ মাটি দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়। এরপর আলু গাছে রোগ বালাই, পোকামাঁকড় ও চত্রাক থেকে রেহাই পেতে বারবার ছত্রাকনাশক ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। ৩ থেকে ৪ দফায় আলুর জমিতে পানি সেচ দেয়া হয়। ৯০ দিনের মাথায় জমি থেকে আলু উত্তোলন শুরু হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার কাহালুতে রবি শস্য মৌসুমে আলুর ভালো ফলনের আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।
ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে আলু গাছ পরিচর্যায় চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভায় এবার ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্দ্ধারন করা হয়েছে। আলু চাষিরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করে থাকেন । এর মধ্যে ফাঁটা পাকড়ি, তেল পাকড়ি, বট পাকড়ি, কালো পাকড়ি, রোমানা কার্ডিনাল,ষ্টিক, ডায়মন্ড,এ্যালভেরি উন্নত জাতের আলু উল্লেখযোগ্য।
উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ধাওয়াপাড়া গ্রামের আলু চাষি মোঃ আমিনুল ইসলাম,পাইকড় ইউনিয়নের মালিগাছা গ্রামের আবু ছালিক ও পৌর এলাকার সারাই গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে আলু আবাদে জমি চাষ, বীজ ক্রয়, রাসায়নিক ও জৈব সার, বালাইনাশক ঔষধ প্রয়োগ, পানিসেচ, শ্রমিক মজুরি সহ নানা খরচে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয় । এ হিসেবে এক বিঘা জমিতে দেশি আলু উৎপাদন হয় ৫০-৬০ মণ, আর কার্ডিনাল জাতের আলু ৭০/৮০ মণ। গত মৌসুমে আলুর দাম বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন থাকায় কেজিতে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
শীতের সবজির সাথে বাজারে নতুন আলু আসায় ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু উৎপাদনের ভরা মৌসুমে চাষিরা লাভের মুখ দেখলেও গত দেড় মাস আগে আলুর বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মধ্য স্বত্বভোগীরা হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। তাছাড়া একই জমিতে আগামী ইরি বোরো ধান রোপন করার সময় শুধু মাত্র পানি সেচ, নিড়ানি ও ঔষধ প্রয়োগ ছাড়া তেমন কোন খরচ হয়না। রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগে জমিতে উর্বরা শক্তি বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন ধানের অধিক ফলন পাওয়া যায়, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিয়া যায় বলে কৃষকরা জানান।
Leave a Reply