বগুড়ায় অসুস্থ বাবার নিকট বাসা ও ট্রাকসহ সকল জায়গা লেখে নিয়েছেন ছেলে মেয়ে। অবশেষে বাবাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে ছেলে রনি। এক পা হীন বাবা শহরতলীর মাটিডালি এলাকার মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে জহুরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, অতিব দুঃখের সহিত আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমার ছেলে মেয়ের দ্বারা আমি আজ নিঃস্ব। আমি পায়ের অসুখ লইয়া কয়েক বছর চিকিৎসাধীন ছিলাম। তৎপর একটু সুস্থ হইয়া বাড়ী ফিরিয়া আমার পুত্র রনি ও কন্যা সীমা খাতুন আমাকে বাড়ীতে উঠতে দেয়না বলে বাড়ীঘর জমি জমা, ব্যবসার ট্রাক সব লিখে নিয়েছে। বর্তমানে আমি ভাড়া বাসায় আছি। মাটিডালী সাকিনের ৫ শতক জমিতে নির্মিত দোতলা বিল্ডিং, ৯৫৯১/৯৫৬৬ দাগের ৫ শতক জমিতে নির্মিত একতলা বিল্ডিং এবং একটি টিনশেড বাড়ী, বারপুর মধ্যপাড়া মৌজার ৫৩০৯/৫৩৪৬ দাগের উপরে নির্মিত ৫টি টিনশেড দোকান তথা মার্কেট, ৩০ শতকের ও ০৭ শতকের এবং ২১ শতকের ধানী আবাদী জমি ও কালীবালা মৌজার ৯২৭/৯২৮/৯২৯ দাগের ১০ শতকের কলাবাগান আমার পুত্র রনি ও কন্যা সীমা খাতুন আমার চিকিৎসাকালীন অসুস্থ ও জ্ঞানশুন্য অবস্থায় কখন লেখে নেয় জানিনা। আমি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে তাদেরকে কখনো সম্পত্তি দিতে চাইনি, দেইনি।
এছাড়াও আমার ব্যবসার ১৮টি ট্রাকের মধ্যে ১১টির কাগজ নাকি আমার পুত্র রনি এবং ২টি বাবদ আমার কন্যা সীমা খাতুন করিয়া লইয়াছে। অপর ৫টি ট্রাক এখনো আমার নামে থাকা স্বত্বেও উক্ত ট্রাকগুলির আয়ের টাকা আমাকে দিতেছে না ছেলে রনি।
আমি এখন অকর্মন্য হইয়া পড়িয়াছি। রোজগার নাই। জীবনের শেষ প্রান্তে ছেলেমেয়েদের ষড়যন্ত্রমূলক দলিল করা এবং আমাকে বাড়ীঘর ছাড়া করায় এবং ট্রাকের আয় বন্ধ করিয়া দিয়া আমার জীবন চরম অশান্তিময় করিয়া তুলিয়াছে। আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে প্রতিকার কামনা করছি।
Leave a Reply