নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া মােটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২০২৫ এর সাধারণ ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনার আব্দুল বাসেদকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ তুলেছেন সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ভিকেল।
তিনি এক বক্তব্যে বলেন, গত ২৩ মে সরকারী জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে ত্রি-বার্ষিক মেয়াদী বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে আমরা নিম্ন বর্ণিত বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। উক্ত নির্বাচন করতে গিয়ে আমাদের দৃষ্টিতে যে সকল অনিয়ম ও কারচুপি পরিলক্ষিত হয়েছে তাহা ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী বর্ণনা করছি:
১। নির্বাচনী ব্যালটে সাংগঠনিক সম্পাদক পদের কোনটিতে ছবিযুক্ত ০৫ জন প্রার্থী মুদ্রিত করা হয়েছে। কোনটিতে ছবি যুক্ত ০৪ জন প্রার্থী মুদ্রিত করা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে সাধারণ ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করার ইহা একটি অপকৌশল এবং এইরূপ অনিয়মে ভোট বাতিল হওয়া উচিত ছিল।
২। সদস্য প্রার্থীদের গলায় ঝুলানো পরিচিতি কার্ড ভুলে ভরা, কাহারও কার্ডে সহ সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক ইত্যাদি।
৩। ভোট কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ভোটারদেকে প্রকাশ্য প্রভাবিত করার বিধান না থাকা সত্ত্বেও দলীয় পরিচয়ধারী কিছু প্রার্থী ভোটারদেরকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। এই ব্যাপারে নির্বাচন চেয়ারম্যান জনাব এ্যাড. আব্দুল বাছেদ সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
৪। ভোট প্রদান সমাপ্ত হওয়ার আনুমানিক ০১ (এক) ঘন্টা পূর্বে ১০০/১৫০ জন বহিরাগত ব্যক্তিবর্গ জিলা স্কুলের প্রাচীর টপকে ব্যালটে অবৈধ সীল মেরে তাদের প্রার্থীদেরকে জয়যুক্ত করার অপতৎপরতা চালিয়েছে। নির্বাচন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি জানা সত্ত্বেও এই অনিয়ম প্রতিরোধে কোন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করেননি। প্রত্যেক বুথে সিসি ক্যামেরা দ্বারা পরিচালনা করা হয়েছিল সেগুলো ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পর্ট পরিষ্কার হয়ে যাবে।
৫। ভোটের সরবরাহকৃত ফলাফল সীট কাটাকাটি ও ঘষামাজা ত্রুটিপূর্ণ।
৬। আমাদের মোট ভোটার ছিল ২১৪৭২। ভোট কাস্ট হয়েছে ১৬৮৮৩। ভোটারদের জমাকৃত আইডি কার্ডের পরিমাণের সঙ্গে ভোট প্রাপ্তির সংখ্যার গরমিল রয়েছে এবং শ্রমিকদেরকে বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় ফেলে, ফলে অনেকে ভোট না দিয়ে চলে যায়।
৭। জেলা পরিষদে প্রার্থীদেরকে মতবিনিময় সভায় ডাকা হয় সেখানে আমরা অধিকাংশ প্রার্থী যৌথ বাহিনী দ্বারা ভোট পরিচালনার দাবি করি কিন্তু তারা সেই মতা মতের প্রতিফলন ঘটায় নাই।
লিপিবদ্ধ ত্রুটির কারণে ২৩/০৫/২০২৫ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নয়।
বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারা আমাদের ভোটের ফলাফল পাল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাই আমি আমরা ভোটের ফলাফল নিরপেক্ষ ব্যক্তিকর্তৃক পুনঃ গণনার দাবী করছি।
২৩ মে অনুষ্ঠিত বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনটি আপামর প্রার্থীদের জন্য সমঅধিকার পূর্ণ ছিল না। নির্বাচনে শুধুমাত্র একটি দলের অনুসারী প্রার্থীগণের দাপট ও তান্ডব বিদ্যামান ছিল। আমরা এবং আমাদের ন্যায় অন্যান্য প্রার্থীগণকে বাকরুদ্ধ প্রার্থীর ন্যায় বোবা হয়ে থাকতে হয়েছে।
২৪ এর আন্দোলন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। যার জন্য এত প্রাণের বলিদান, এত আহতদের কষ্ট সহিষ্ণুতার কোন মূল্যই রইল না। আমরা অদ্যকার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ করছি, ২৩ মে অনুষ্ঠিত বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের অনিয়ম ও ত্রুটিসমূহ আপনাদের পত্র-পত্রিকায় নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ করুন এবং আমাদের ভোটের ফলাফল পুনঃ গণনার বিষয়ে সহযোগীতা করুন। আমরা ইতিমধ্যে গত ২৮ মে তারিখে ভোট পুনঃ গণনার লিখিত আবেদন ১। চেয়ারম্যান নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ২। জেলা প্রশাসক, বগুড়া, ৩। পুলিশ সুপার, বগুড়া ৪। শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী।এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া বরাবর দাখিল করেছি।
অদ্যকার সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের উপস্থিতি ও ধৈর্য্য ধারণের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীগণ হলেন, নির্বাচনে
সহ-সভাপতি প্রার্থী মোঃ সমশের আলী,মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, মোঃ রফিকুল ইসলাম গোলাপ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ লেবু মিয়া, মোঃ সারোয়ার, মোঃ ফারুক খান, মোঃ আব্দুল খালেক, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, আন্তঃ জেলা সড়ক সম্পাদক, মোঃ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অভ্যন্তরীন সড়ক সম্পাদক, মোঃ রবিউল ইসলাম (সাগর), মোঃ পান্নান শেখ, মোঃ রেজাউল করিম মাসুদ, প্রচার সম্পাদক মোঃ ঠান্ডু মন্ডল, ধমীয় সম্পাদক মোঃ হযরত আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ আব্দুস সামাদ শেখ,মোঃ মনিরুজ্জামান সোহেল, কার্যকরী নির্বাহী সদস্য মোঃ সোহেল শেখ, মোঃ মোরশেদ হোসেন,মোঃ রতন শেখ, মোঃ মিন্টু, মোঃ সাইফুর রহমান শাওন, মোঃ সাইদুল ইসলাম।
Leave a Reply