নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার ধাওয়াপাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের শ্বশুর পরিবার ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ধাওয়াপাড়ার বাসিন্দা মোছাঃ রঞ্জনা বেগম এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রঞ্জনা বেগম জানান, তার মা ও পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ধাওয়াপাড়া মৌজার সাবেক ১৬ দাগের ৩৯ শতকের কাতে প্রায় ২৮ শতক জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। অথচ এলাকার আব্দুর রহিম পরিবার এবং দক্ষিণ নারুলীর আকতারুজ্জামান পরিবার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আকতারুজ্জামান বগুড়া পৌরসভার ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং তার ছেলে আসাদুজ্জামান বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রহিম পরিবার আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে রঞ্জনা বেগম পরিবারের দীর্ঘদিনের দখল প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। কিন্তু এরপরও তারা দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে হামলা চালিয়ে রঞ্জনা বেগমের মা ও পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযোগকারী রঞ্জনা বেগম আরও বলেন, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের প্রভাব খাটিয়ে মামলা নেয়া হয়নি। বরং উল্টো তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিম ও তার স্বজনরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছে—“আমাদের জামাই শিগগিরই এসপি হবে। তখন পুলিশ দিয়ে জমি দখল করবো এবং প্রতিপক্ষকে জেলে পাঠাবো।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী সমর্থিত এ দুটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তারা কোনো সমঝোতায় রাজি হয়নি। বরং গত ২৪ আগস্ট বগুড়া প্রেস ক্লাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোছাঃ রঞ্জনা বেগম প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভূমিদস্যু এ দুই পরিবারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
Leave a Reply