ফিলিস্থিনে (প্যালেস্টাইন) গণহত্যা বন্ধ করা এবং ইসরাইলের দখলমুক্ত স্বাধীন ফিলিস্থিনি রাষ্ট্রের দাবিতে-সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ ও নেতা নিয়াহুর কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা কাউন্সিল পস্তুতি কমিটির আহবায়ক নিয়তি সরকার নিতু, বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক কমরেড অ্যাড সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মণ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা কাউন্সিল পস্তুতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক অক মৈত্র প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন: আমরা গণহত্যা দেখেছি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আমাদের দেশে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা করেছিল। তার চাইতেও ভয়াবহভাবে প্যালেস্টাইনকে একটা অবুরুদ্ধ কারাগারে পরিণত করে সেই কারাগারে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আমরা ফিলিস্থিনে (প্যালেস্টাইন) গণহত্যা বন্ধ এবং ইসরাইলের দখলমুক্ত স্বাধীন ফিলিস্থিনি রাষ্ট্রের দাবি করেছি। প্যালেস্টাইনে যা হচ্ছে এটা কোন যুদ্ধ নয়, ধর্মযুদ্ধ তো নয়ই এটা নৃশংস, নির্মম গণহত্যা। সেই গণহত্যার বিরুদ্ধে আজকে আমরা প্রতিবাদ করছি, সারা বিশ্বজুড়েই প্রতিবাদ হচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বলছেন, পৃথিবীর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। যুদ্ধ, মাদক-অস্ত্র ব্যবসা, মহামারী ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু আসল যে কারণ তা হচ্ছে পুঁজিবাদ। প্যালেস্টাইনে যে গণহত্যা চলছে তারও গভীরে গেলে আমরা দেখবো যে পুজিবাদই এই সংকটের মূল কারণ। আমেরিকার যে তরুণ বৈমানিক নিজের শরীর আগুন দিয়ে এই গণহত্যার প্রতিবাদ করেছে এবং হাজার হাজার ছাত্ররা প্রতিবাদ করছে। আমরা গণহত্যা বন্ধের ধাবিতে বিশ্ব বিবেক জাগ্রহ হওয়ার আহবান জানাছি।
সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন: গত: ০৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এই দফায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইউরোপীয় অস্ত্র কোম্পানীগুলো বিপুল মুনাফা করছে। এরা ইসরায়েলকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। একাত্তর সালের ২৫শে মার্চ বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল আজকে প্যালেস্টাইনে এই গণহত্যার পিছনেও একই দৃষ্টিভঙ্গি, মতাদর্শ ও একই রাজনীতি পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। তাই এই গণহত্যা, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষের কর্তব্য। এই গণহত্যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। এই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে একদিন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই। সেই সাথে সারা দুনিয়ার বিবেক সম্পন্ন মানুষ কে এই গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানায়।
Leave a Reply