বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে কড়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।
সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এ কথা বলেছেন। তার এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীর সেই সময়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
একথা সত্য যে জাতিসংঘ সেনাবাহিনীকে সতর্কবার্তা প্রেরণ করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তা আসার আগেই ০৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখ আনুমানিক ১৩৩০ ঘটিকায় ঢাকা সেনানিবাসসহ ভিটিসি’র মাধ্যমে অন্যান্য সকল সেনানিবাসের অফিসারদের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে সেনাপ্রধান আত্মরক্ষা ব্যতীত ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করার জন্যে গুলি না করার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর ০৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু কর্তৃক জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘ মিশন হতে প্রত্যাহারের বিষয়ে মুখ্যসচিবকে হুমকি প্রদান করা হয় এবং এই প্রেক্ষিতে ০৫ আগস্ট আনুমানিক ০০২১ ঘটিকায় শেখ হাসিনা সালমান এফ রহমানকে ডোনাল্ড লু-এর সাথে সেনাবাহিনী বিষয়ে সমঝোতা করার নির্দেশ প্রদান করেন।
এমতাবস্থায় যেহেতু সেনাপ্রধান ০৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখেই ছাত্রজনতার আন্দোলন প্রতিহত না করার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন, সেহেতু জাতিসংঘ কর্তৃক প্রদত্ত সতর্কবার্তাকে সামনে এনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল ওয়াকার আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলির নির্দেশ না দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন এবং জনতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের জনমানুষের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি —যা ছিল ইতিহাস বদলে দেওয়া এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
০৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকার রাজপথে ছাত্র-জনতা যেভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছে, তা ছিল অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন।
এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ক্ষমতার পট পরিবর্তন ঘটে। সেখানেও দেশবাসীকে সাহস জুগিয়েছে সেনাবাহিনী। ডাকাতিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও সহিংসতা মোকাবিলায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যরা। এখনো এই বীর সেনারা জনগণের পাশে রয়েছে বলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে দেশে।
Leave a Reply