1. admin@bogurapost.com : admin :
জোড়া হত্যাকান্ডের ৬দিন পর ফের একই রাতে দুই যুবককে হত্যা : বগুড়াবাসী শংকিত - BoguraPost
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনকে কারাগারে বগুড়ায় সঠিক ও সুষ্ঠভাবে ফসল উৎপাদনে চাহিদা মতো সার সরবরাহের দাবি  বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩ বগুড়ায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় শ্রমিকদলের বহিস্কৃত নেতা লিটন শেখ বাঘার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ দিনমজুর নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি বগুড়া কানছগাড়ি বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম সম্পাদক রকি নির্বাচিত চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম ১৪১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

জোড়া হত্যাকান্ডের ৬দিন পর ফের একই রাতে দুই যুবককে হত্যা : বগুড়াবাসী শংকিত

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪
  • ২০১ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে স্ত্রী-সন্তানকে গলাকেটে নিংশস্য হত্যার ৬দিন একই রাতে পৃথক স্থানে শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ দুই যুবককে হত্যা। এসব হত্যাকান্ডের খবরে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ছে। শনিবার রাতে জেলার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের পোড়াপাড়া এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ২৯টি মামলার আসামী ব্রাজিল(৩৫)কে এলোপাথিভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে সোনাতলা উপজেলার চামুরপাড়ার এলাকার ইজিবাইক ছিনতাই করে চালক সম্রাট ইসলাম(৩৭) কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শহরতলীর সাবগ্রাম কুরশা এলাকার কালভাটের নিচে পানিতে ফেলে গেছে। এর আগে স্ত্রী আশামনি (২০), সন্তান আব্দুল্লাহ আল রাফি(১) কে হত্যার পর মায়ের মরদেহ হোটেলের বাথরুমের ভেতরে বিবস্ত্র অবস্থায় রেখেছিল। সন্তানের বিচ্ছিন্নকৃত মাথা করতোয়া নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছে পিতা। সেই মাথার কোন সন্ধান আজও মেলেনি।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় দুই ডজ্জন মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ব্রাজিল(৩৫) কে এ্যালোপাথিভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ১১টার দিকে কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকায় তালুকদার পাড়া রাস্তার মোড়ে সন্ত্রাসীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় ব্রাজিল মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের পোড়াপাড়ায় তাঁর নিজ গ্রামে  ফিরছিলেন। রাস্তায় পাশে আগে থেকেই ঔঁত পেতে থাকা থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁর মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে  কুপিয়ে  মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। মোটরসাইকেলে  থাকা অপর সঙ্গী সন্ত্রাসীদের হামলায় পালিয়ে যায়। নিহত ব্রাজিল শহরের গোদারপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে। তবে সে কাহালুর পোড়াপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

জানা যায়, ব্রাজিল ইসলাম বগুড়া যুবদলের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নেতা ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। বগুড়ার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, হত্যা, অস্ত্রসহ অন্তত ২৯টি মামলা রয়েছে। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা হয়। এরপর একই অপরাধে এবং একই আইনে ২০১৫ সালে আরেকটি মামলা।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ৬টি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও ৪টি মামলা দায়ের হয়। এরমধ্যে একটি মামলায় বিশেষ ও বিস্ফোরক আইনে অপরাধের অভিযোগ আনা হয় ব্রাজিল ইসলামের বিরুদ্ধে। বাকি ৯টি মামলায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদক রয়েছে।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ মার্চ পিস্তলসহ গ্রেফতার হন ব্রাজিল ইসলাম। পরবর্তীতে ওই বছরের ১ নভেম্বর তিনি জামিন পান। জামিনে বের হয়ে পুকুরে মাছ চাষে জড়িত ছিলেন।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা ওসি সেলিম রেজা বলেন, একাধিক মামলার আসামি ব্রাজিলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  তার শরীরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত কোপানোর দাগ রয়েছে। তবে কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড এবং কারা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। শনাক্তের চেস্টা চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার দিনগত রাতে জেলার সোনাতলা উপজেলার চামুরপাড়ার এলাকার সম্রাট ইসলাম(৩৭) কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা নিশ্চিত করে শহরতলীর সাবগ্রাম কুশসা এলাকার একটি কালভাটের নিচে পানিতে ফেলে গেছে। রোববার সকালে স্থানীয়দের সংবাদে থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠালে তার পরিচয় মেলে। নিহত সম্রাট ইসলাম চামুরপাড়া এলাকার মৃত আজিজার রহমান মোল্লার ছেলে।

বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর)  শরাফত ইসলাম রোববার সকালে জানান, উপজেলার সাবগ্রাম কুরশা এলাকায় একটি কালভার্টের নিচে পানিতে এক যুবকের মরদেহ সকারে দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পরে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে  মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন প্রাথমিক ভাবে লক্ষ্য করা যায় নি। যুবকের পরিচয়ও জানা যায়নি।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে  ধারণা করা হচ্ছে যুবককে অন্য কোথায় তাকে হত্যা করে মরদেহ কালভার্টের নিচে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের  মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া মেডিকেল পুলিশ ফাড়ির ইনচাজ পরিদশক আনিছুর রহমান জানান, নিহত সম্রাট ইসলাম শহরের জামিলনগর এলাকায় ভাড়া থেকে অটোরিকসা চালিয়ে আসছিল। প্রতিদিনের ন্যায় শনিবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে ভাড়াবাসা থেকে বের। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সম্রাট। দুবৃত্তরা সম্রাটের ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে উক্ত স্থানে পানি ফেলে গেছে।  রোববার মরদেহ উদ্ধারের পর মেডিকেলে আনা হলে। নিহতের স্বজনরা এসে তার নাম পরিচয় নিশ্চিত করে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শনিবার রাতে দুবৃত্তরা কোন এলাকা থেকে সম্রাটের চালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে তাকে হত্যা করে সাবগ্রামের কুরশা এলাকায় কালভাটের নিচে পানিতে ফেলে গেছে। ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২ জুন স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে হত্যাকান্ডে আজিজুল হক নামে এক সেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। আজিজুর রহমান  নিহত আশামনির স্বামী। আজিজুর বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া। নিহত শিশুর মাথার সন্ধানে পুলিশ তল্লাশী শুরু করেছে। সেনা সদস্য আজিজুল হক চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত। এরপর নিহত স্ত্রীর বাবা বাদী হয়ে আজিজুল ও তার বাবাকে আসামী করে হত্যাকান্ড মামলা দায়ের করে। এরপর আজিজুলের বাবা হামিদুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

নিহত আশামনির ভাই শহরের আকাশতারা এলাকার বাসিন্দা মেহেদি হাসান সনি জানান, সেনা সদস্য আজিজুর রহমানের সাথে প্রায় ৩ বছর আগে তার বোনের বিয়ে হয়। দুই মাসের ছুটি নিয়ে সে কিছুদিন আগে বগুড়ায় আসে। এরপর তার ভগ্নিপতি আজিজুর রহমান  গত বৃহস্পতিবার শহরের নারুলি এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। তিনি বলেন বেড়ানোর কথা বলে আজিজুর রহমান  তার বোন ও ভাগ্নেকে নিয়ে শনিবার বেড়িয়ে পড়ে।

বগুড়ার বানানী এলাকার শুভেচ্ছা হোটেলের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, ১ জুন শনিবার সন্ধ্যার পর আজিজুর রহমান  তার স্ত্রী ও এক বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে দোতলার একটি কক্ষে ওঠেন। এরপর রাত ১১টার দিকে তিনি হোটেল থেকে বের হয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ২ জুন রবিবার সকাল ১১টার দিকে আজিজুল হক হোটেলে কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করতে আসেন। কিন্তু তখন তার সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তান না থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। এরপর আমরা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিই। পরে পুলিশ এসে ওই কক্ষের ভেতরে আজিজুল হকের স্ত্রীর গলকাটা বিবস্ত্র লাশ এবং বাথরুমে বস্তাবন্দী মাথাবিহীন সন্তানের মরদেহ  দেখতে পান।

শাজাহানপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, সেনা সদস্য আজিজুর রহমান  হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দাবি সে তার সন্তানের মাথা পাশের করতোয়া নদীকে ফেলে দিয়েছে। নিহত শিশুর মাথা খোঁজা হচ্ছে। জোড়া হত্যাকান্ডে মামলা দায়ের করা হবে।  সেই মামলায় আজিজুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

নিহত আশামনির ভাই মেহেদি হাসান জানান, তার বোনের সাথে ভগ্নিপতি আজিজুর রহমানের দাম্পত্য কলহ ছিল। তার ধারণা দাম্পত্য কলহের কারণেই তার বোন ও ভাগ্নেকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের সময় তারা ভগ্নিপতিকে মোটা অংকের টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও তিনি নানা অজুহাতে টাকা চাইতেন সেনা সদস্য আজিজুর রহমান।

 

শহরের বাসিন্দা এ্যাড. জাহানুর রহমান জাকি জানান, কয়েকদিন আগেই শহরতলীর আবাসিক হোটেলে স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে হত্যার করে স্বামী। এর ৬দিন পর পৃথক স্থানে দুই যুবককে নিংশস ভাবে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। এত হত্যাকান্ডে বগুড়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বগুড়ায় অপরাধ প্রবনতা বেড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাড়িতে থাকাও অনিরাপত্তায় ভুগবে সাধারণ মানুষ।

বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর) শরাফত ইসলাম জানান, জেলার প্রতিটি হত্যাকান্ডের রহস্য এবং জড়িতদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে সেগুলো গুরত্ব সহকারী তদন্ত কাযক্রম চলমান রয়েছে। স্ত্রী সন্তান হত্যাকান্ডে মুলহোতা আজিজুলসহ মামলার আসামী আরেকজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতে পৃথক দুটি হত্যাকান্ডের রহস্য ও জড়িতদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। যে কোন সময় হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনে আওতায় আনা হবে এবং হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews