নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া শহরের রহমাননগরে এক মেজর পরিবারের হয়রানি শিকার হয়ে আসছেন প্রতিবেশীরা। বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রহমাননগরের সালমা বেগম এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্য বলেন,নিম্ন তপশীলভূক্ত সম্পত্তি লইয়া আমাদের সাথে মেজর আশিক (শোভন), পিতা- আলতাব হোসেন, সাং-রহমান নগর এর মায়ের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং আমাদের বাড়ি এবং মেজর আশিক (শোভন) এর মা মোছাঃ রোকেয়া বেগম এর বাড়ীর পাশাপাশী। তারা পৌরসভার প্রান বহিভূতভাবে আমার বাড়ী যাতায়াতের ঝক্তিগত রাস্তা বন্ধ করে নির্মাণ কাজ করা শুরু করে। আমি এবং আমার পরিবারের ও গ্রামের লোকজন তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এক পর্যায়ে আমাদের উপর উত্তেজিত হইয়া বলে যে, “আমার ছেলে মেজর, কিছু বললে আমার ছেলেকে দিয়ে শায়েস্তা করে নিবো। আমরা উপায় না পাইয়া তার মাকে বলি আপনার ছেলে মেজর আশিক (শোভন) এর সাথে কথা বলে দেন তখন তার ছেলে মেজর মেজর আশিক (শোভন) এর সাথে কথা হয় এবং মেজর আশিক (শোভন) হুমকি মূলক কথা বলে যে, তোদেরকে আওয়ামীলীগ বলে ধরে নিয়ে যাব। তখন আমরা এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ করিলে পুলিশ তদন্তের জন্য আসিলে তার ছেলে মেজর সাহেব এর সাথে ফোনে কথা বলায় দিলে পুলিশ কোন পদক্ষেপ না লইয়া চলে যায় এবং পৌরসভায় অভিযোগ দিতে বলে। পৌরসভায় অভিযোগ দিলে পৌরসভা থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে তদন্তের জন্য প্রেরন করলে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ঘটনাস্থলে আসেন এবং উভয় পক্ষকে ডাকে এবং মেজর সাহেব এর মা রোকেয়া বেগমকে পৌরসভা প্লান (নির্মাণ কাজের) দেখতে চাইলে তিনি বলেন যে, “আমার ছেলে মেজর, তার কাছে সব কাগজ পত্র আছে” এই বলে মোবাইলে কল করে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এর সাথে কথা বলাই দেয়। পরবর্তীতে আমরা পৌরসভায় গেলে এই বিষয়ে আমরা কোন প্রতিকার না পাইয়া ফিরে আসি। পরবর্তীতে মেজর সাহেব এর মা রোকেয়া বেগম বলেন যে, “তোমরা যেখানেই যাও, যার কাছেই যাও কোন কাজ হবে না, কারণ আমার ছেলে মেজর। মেজর সাহেবের মা তার ছেলে নাম ব্যবহার করে বে-আইনীভাবে নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছে। আমরা মেজর আশিক (শোভন) এর জন্য কোথাও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি সংক্রান্তে জেলা বগুড়ার ১ম সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মোকদ্দাম নং- ৭৭৯/২০২৪ বন্টন বিচারধীন আছে। উক্ত মোকদ্দাময় গত ইং ১৫/১০/২০২৫ তারিখে আদালত তফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে সৃিতিবস্থা আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু মেজর আশিক (শোভন) তার ক্ষমতার দাপটে নালিশী তাফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে। জনগণের চলাচলের রাস্তায় ঢালাই করে গ্যারেজ নির্মাণ করে দখল করে এবং প্রতিবেশীর সীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে দেয়াল নির্মান ও ক্রয়কৃত জায়গার সমপরিমান ছাদ ঢালাই করেছে। এমঅবস্থায় আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে মাননীয় আদালতের স্থিতিবস্তা আদেশ কার্যকর করণের জন্য আবেদন করিলে মাননীয় আদালত গত ইং ১৭/১১/২০২৫ তারিখের আদেশে অফিসার ইনচার্জ, সদর থানা, বগুড়াকে সৃিতিবস্থার আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু মেজর আশিক (শোভন) একতরফাভাবে স্থিতিবস্তা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা বগুড়ার জেলা জজ আদালতে ১৮৮/২০২৫ মিস আপীল দায়ের করে গত ইং ০১/১২/২০২৫ তারিখে স্থগীত আদেশ হাসিল করিতেছে। বর্তমানে দেওয়ানী আদালত অবকাশকালীন ছুটিতে থাকার সুযোগে ক্ষমতার অবৈধ দাপটে মেজর আশিক (শোভন) আমার ও প্রতিবেশীদের স্বত্ব দখলীয় জায়গায়সহ সরকারি পৌরসভার রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখিয়া বাড়ির কাজ প্রায় সম্পূর্ন করেছে। নির্মাণ কাজের সময় প্রতিবেশীদের টিনের চাল সিমেন্ট ফেলে এবং গাছের ডাল পালা ফেলে টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত করে গাছ কেটে পৌর প্লান বহির্ভুতভাবে নির্মাণ কাজ করিতেছে।
উপরোক্ত অবস্থাদি বিশেষভাবে বিবেচনা করতঃ বিষয়টি তদন্ত ও সর্বজ্ঞ্যতার্থে সাংবাদিক ভাইদের সহযোগীতার জন্য সংবাদ সম্মেলন করিলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী আকতার কাজী, পারুল বেগম, পারভীন বেগম,ইসমত আরা, বিউটি,মিলন।
মেজর আশিকের মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply