নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাড়িয়া গ্রামে বিচার নামে নির্যাতনের শিকার বাদশা প্রামানিক (৬৫) নামে এক অসহায় ব্যক্তিকে হত্যার করার অভিযোগ উঠছে। নিহত বাদশা ওই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। গত রাতে বিচার করার জন্য বৈঠক বসে বাদশাকে মারপিট করলে আহত হয়ে আজ সোমবার সকালে মারা যায়। মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ দুপুরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত শরীরের একাধিক মারপিটের চিহ্ন আছে বলে জানান শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহিদুল ইসলাম।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, শাজাহানপুরে আমরুল ইউনিয়নের মাড়িয়া চরপাড়া গ্রামে বাদশা মিয়া নামের ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে শিশু ধর্ষণের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গ্রাম্য শালিশী বৈঠকে বিএনপি নেতা বাদশা সরকার ও তমেজ হাজীর নির্দেশে সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান মতি কর্তৃক বেধড়ক মারপিটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বাদশা মিয়া ওই গ্রামের মৃত রমযান আলীর পুত্র। ঘটনার বিবরণ, স্থানীয় ও থানাসূত্রে জানা গেছে ২৫ আগস্ট রোববার রাত ৯ টায় মাড়িয়া চরপাড়ায় শালিশ বৈঠক বসে। শালিশে নিহত বাদশা মিয়ার নামে শিশু ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এনে মিমাংসা করার জন্য ৩ লাখ টাকা দাবী করে বিচারকমন্ডলী। সেখানে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা বাদশা সরকার, তমেজ হাজী, সাবেক ইউপি সদস্য মতিউর রহমান মতি সহ আরো অনেকে। প্রায় দু’শেো লোকের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। টাকা দিতে অপারগ হওয়ায় বিচারকগণ বাদশা মিয়াকে শাস্তিস্বরুপ উপস্থিত লোকজনের সামনেই দশহাত নাকে খত দেয়া সহ শতবার কানধরে উঠবস করায়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাদশা মিয়া ও তার পরিবার। এতেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। বিচারকমন্ডলী তাকে লাঠিপেটা করার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ মোতাবেক আমরুল ইউপির সাবেক সদস্য মতিউর রহমান মতি বাদশা মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের দিন ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাদশা সরকার, তমেজ হাজী, মতি মেম্বার ও তাদের লোকজন আমাদের কাছে তিনলাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় তারা মারপিট করে বাদশা মিয়াকে হত্যা করেছে। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই। এঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানায়।
শাজাহানপুর থানার এস আই সমর চন্দ্র আচার্য্য এলাকাবাসীর বরাদ দিয়ে জানান, বাদশা প্রামানিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ নিয়ে রোববার রাতে এলাকায় বিচার করার জন্য বৈঠকে বসে বিএনপি নেতা বাদশা সরকার ও ইউপির সাবেক সদস্য মতি বেশ কয়েকজন। সেই বৈঠক শেষ রাত সাড়ে ১১ টায়। এসময়ের মধ্যে বাদশাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি
মারপিট করে। এতে বাদশা গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। সেখান থেকে রাতে আহত বাদশাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। সোমবার সকালে বাদশা প্রামানিক মারা যায়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা বাদশা সরকার ও মতি মেম্বারদের মারপিটে বাদশার মৃত্যু হয়েছে। বৈঠক কে কে কিভাবে মারপিট করেছে তা বাদশা পরিবারের কাছে বলে মারা গেছে।
Leave a Reply