বগুড়ার শেরপুরে সরকারি খাস ভুমিহীনদের ইজারা নেওয়া পুকুর দখল করতে গিয়ে গ্রাম পুলিশ মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩০) মারপিটে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। সে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য। ওই ইউনিয়নের আটাইল গ্রামে মোশার সরকারি পুকুরপাড়ে ভুমিহীন বাসিন্দা । গত ৬ আগস্ট সরকারি একটি খাসপুকুরের দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে মিজানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। মিজান ছিলেন মোশার পুকুরপাড়ে ভূমিহীন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
নিহত মিজানের বাবা মোজাফফর আলী বলেন, আটাইল গ্রামের মোশার পুকুরটি সরকারি সম্পত্তি। ১ দশমিক ৯৫ একর আয়তনের এই পুকুর তাঁরা ভূমিহীন সমিতি থেকে ৩ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। মাস ৪ আগে পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন তাঁরা। পুকুরটির মধ্যে পার্শ্ববর্তী ঢেপুয়া গ্রামের আবদুস সামাদের পরিবারের কিছু সম্পত্তি আছে। সামাদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তাঁরা।
তিনি আরও বলেন, সরকার পদত্যাগে গত মঙ্গলবার সকালে আবদুস সামাদ ও তাঁর ভাইসহ ১৫/ ২০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পুকুরটির দখল নেওয়ার জন্য আসেন। তাঁরা জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেন, দেশে এখন তাঁদের সরকার। তাঁরা যা বলবেন গ্রামে তাই হবে। এ সময় মিজানসহ ভূমিহীন সমিতির অন্তত ১০ জন নারী-পুরুষ বাধা দিলে আবদুস সামাদসহ অন্যরা তাঁদের মারপিট শুরু করেন। এতে মিজানের মাথায় গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় ঢাকার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুতে সংসার অন্ধকারে নেমে এসেছে । দুই শিশুসন্তানসহ পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৭জন। স্বামী মিজান ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জন সক্ষম ব্যক্তি। আমার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করছি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, নিহতের ঘটনাটি তিনি শুনেছি। নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply