বগুড়ার শেরপুরে কিশোর তামিম হাসান হত্যাকাণ্ডে রহস্য উদঘাটন ও জড়িত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুকুর থেকে কিছু মাছের খাদ্য নেওয়া দেখে ফেলায় কিশোরকে বলাৎকারের পর চিৎকার করায় শ্বাসরোধে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে মরদেহ ফেলে দেয় যুবক এমদাদুল হক (২২)। গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল শেরপুর উপজেলার দক্ষিণ আমইন এলাকার খাদেমুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুর ১২ টায় নিজ কার্যালয়ে পুলিশ সুপার জাকির হাসান এক প্রেসবিফ্রিং এসব তথ্য জানান। নিহত কিশোর তামিম হাসান (১৩) একই এলাকার মুকুল হোসেন আকন্দের ছেলে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের আমইন দক্ষিণপাড়া এলাকায় ১০ জুলাই বুধবার সকালে স্থানীয় পুকুর থেকে মাছের খাদ্য নেয় নিহত কিশোর তামিম। এটা দুর থেকে দেখে ফেলে গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল। পরে কিশোরকে ভয় দেখিয়ে বলাৎকার করে। এতে কিশোরের মলদ্বার ছিঁড়ে রক্তপাত হওয়ায় চিৎকার করে। এরপর কিশোর বলাৎকার করার কথা বলে দিতে পারে বলে ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পুকুরের ফেলে দেয় এমদাদুল। বৃহস্পতিবার সকালে বস্তাবন্দি মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পুলিশকে স্থানীয়রা সংবাদ দেয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের শেষে বগুড়া মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে কিশোর হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য জানায় এমদাদ। তার দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে বস্তা, লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল হককে আদালতে হাজির করে ১৬০ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
উল্লেখ, গত বুধবার (১০ জুলাই) সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে তামিম নিখোঁজ হয়। নিখোঁজার পর থেকেই তামিমকে বিভিন্ন জায়গাই খুঁজাখুঁজি করা হয়। তামিমকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে শেরপুর থানায় সাধারণ ডাইরি করে। বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই সকালে কিশোর তামিমের মরদেহ পুকুরে ভাসমান দেখে স্থানীয়দের সংবাদে উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছিল থানা পুলিশ।
Leave a Reply