বগুড়ার কাহালুতে ৫১ তম গ্রীড্মকালীন বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলায় পরাজিত দলের শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলায় বিজয়ী দলের ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়ে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কাহালু থানা রোডে পৌর এলাকার গোায়াল পুকুর নামক স্থানে এ হামলার ঘটনায় তারা আহত হয়। ঐ দিন সকাল সাড়ে ১১ টায় ৫১ তম গ্রীস্মকালীন বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলার জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ১ পয়েন্ট জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়। জয়লাভের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ ফজলুল হক ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইকে করে জামগ্রাম স্কুলে ফেরার পথে কাহালু থানা রোডে পৌর এলাকার গোয়াল পুকুর নামক স্থানে ঔত পেতে থাকা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরাজিত শিক্ষার্থীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এতে জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীসহ অনেকে আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে ৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। সিয়াম ও বোরহানের অবস্থা কিছুটা অবনতি হওয়ায় তাদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলো আব্দুল্লাহ বাবু সিয়াম ৯ম শ্রেণি, বোরহান উদ্দিন ৯ম শ্রেণি, আমিনুর ইসলাম ৮ম শ্রেণি, মেছবাহ উদ্দিন ১০শ্রেণি, আবু হানিফ ১০ম শ্রেণি ও সিবলী সাদিক ১০ম শ্রেণি। পরে জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুলিশের সহায়তায় তাদের স্কুলে পৌঁছে দেয়া হয়। এদিকে মঙলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা আফরোজ কাহালু উপজেলা হাসপাতলে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান ও তাদের শারীরিক খোঁজ খবর নেন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা ক্রীড়া সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে । এ ঘটনায় সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এফ এম এ ছালাম দুঃখ প্রকাশ করেন। এসময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল খালেক, তাইরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলাল উদ্দিন প্রামানিক উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অপ্রীতিকর ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন হাসপাতালে আহতদের পাশে থেকে চিকিৎসার তদারকি করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। তবে উপজেলা স্কুল, মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল খালেক জানান, কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে মারপিট করায় আমি উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছি। আমার শিক্ষার্থীরা এর আগেও এমন হামলার শিকার হয়েছিলো। আমি দোষীদের বিচার চাই।
Leave a Reply