নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার গাবতলী পৌরশহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শাহাবাজপুর কালুডাঙ্গা গ্রামে হেলিপ্যাডসহ বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ সুমন। সেই বাড়িতে যাতায়াতের সড়কটি বছর পাঁচেক আগে এলজিইডির মাধ্যমে পাকাও করে নিয়েছেন। সড়কটি আরো প্রশস্ত করতে এবার পাশের ১০টি পরিণত ফলদ গাছ কেটে ফেলেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে দুই দিন অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গুলশান থানা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত নেতা এ কিউ এম ডিসেন্ট আহম্মেদ সুমন গাবতলী উপজেলা কালুডাঙ্গা গ্রামের হারুনুর রশিদ ছেলে।
১১ মে শনিবার দুপুরে শতাধিক লোক নিয়ে গ্রামের বুরুজ ভিটাপাড়া সড়কের পাশের গাছগুলো কাটেন সুমন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গাছগুলোর কারণে দূর থেকে ওই নেতার বহুতল বাড়ির আলোকসজ্জা দেখা যায় না। এছাড়া অপ্রশস্ত সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় সুমনের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল গাছগুলো। এ জন্য বাইরে থেকে লোকজন এনে তিনি গাছগুলো কেটে ফেলেন। সুমন অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রামবাসীই গাছগুলো কেটেছে বলে দাবি করেন।
এদিকে এ ঘটনায় রোববার মধ্যরাতে নেপালতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব আনিছুর রহমান গাবতলী মডেল থানায় মামলা করেছেন। এতে বিএনপি নেতা সুমন ও তার চাচার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আট ফুটের পাকা সড়কটির পাশে আম, বেল, চালতা ও জলপাই গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি গাছে আমও ধরেছিল।
প্রায় ২০ বছর আগে সড়কে নিজ বাড়ির সামনে গাছগুলো রোপণ করেছিলেন স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহমান প্রামাণিক। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই গাছগুলো কেটে ফেলতে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন সুমন। ১১ মে শনিবার দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে এসে গাছগুলো কেটে ফেলে রেখে যান। ওই স্থান থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরেই সুমনের বিলাসবহুল বাড়ি। হেলিপ্যাড, দামি ফুলগাছে ঘেরা বিদেশি টাইলসে মোড়ানো বাড়িটি দূর থেকেই চোখে পড়বে যে কারও। বাড়ির প্রাচীরেও রয়েছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।
গাছ কাটার পর সুমন বলেন, সড়কটি আমার বাবা হারুনুর রশিদ মাস্টারের নামে করা। পরিচিতদের মাধ্যমে সড়কটির বরাদ্দও আমি এনেছিলাম। সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করতে সম্প্রতি একটি বরাদ্দ এসেছে। তাই গ্রামবাসী গাছগুলো কেটেছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তবে বহিরাগতদের নিয়ে আসার অভিযোগ সঠিক নয়।
বাড়ির আলোকসজ্জা দেখানোর জন্য গাছ কাটার অভিযোগ হাস্যকর বলে দাবি করেন তিনি।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কের ধারের ওই গাছের মালিকানা সরকারের। এসব গাছের আনুমানিক দাম লক্ষাধিক টাকা। এসব গাছ কাটায নেপালতলী ইউনিয়ন ভুমি অফিসের উপ সহকারী বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় বিএনপি নেতা এ কিউ ডিসেন্ট আহম্মেদ সুমন প্রধান অভিযুক্ত করে করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাফত ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গাবতলীর নেপালীতলা এলাকায় রাস্তার ধারে সরকারি গাছ কাটায় প্রধান অভিযুক্ত এ কিউ এম ডিসেন্ট আহম্মেদ সুমনকে গত রাতে রাজধানীর গুলশান থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গাছ কাটার কথা স্বীকার করেছেন। গাছ কাটতে নিষেধ করায় এলাকাবাসীকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। এ মামলার বাকী আসামীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply