নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বগুড়াজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শোকাহত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় গাবতলীর বাগবাড়িতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও শোক দেখা গেছে।
বগুড়ার পুত্রবধূ হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জেলার মানুষের সম্পর্ক ছিল ঘরোয়া ও আত্মিক। ফেনিতে জন্মগ্রহনকারী হলেও দিনাজপুরের মেয়ে খালেদা খানম ১৯৬০ সালে বগুড়ার গাবতলীর বাঘবাড়ি গ্রামে পুত্রবধূ হিসেবে আসেন। তখন তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব সামলানো একজন গৃহবধূ হিসেবেই ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে বিএনপির নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। দল সংগঠিত করা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আশির দশকেই তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন।
মঙ্গলবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল আমাদের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো। বগুড়ার মানুষের সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে আমরা সত্যিকার অর্থেই এতিম হয়ে গেলাম। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার আপসহীন নেতৃত্ব ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
জিয়াউর রহমান জন্মভুমি জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক নতুন কান্নাকান্ঠে জানান, গাবতলীর পুত্রবধু বেগম খালেদা জিয়া র মৃত্যু তে দলীয় নেতাকমীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও গভীর শোকাহত হয়ে পড়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সারাদেশের মানুষের যে গভীর সম্পর্ক। সেই গভীর সম্পর্কের সাথে বগুড়া গাবতলী বাসীর সাথে আরও গভীর সম্পর্ক ছিল। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের নওয়াববাড়ি রোডস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বগুড়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। পরবর্তীতে আরও দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বগুড়ার বিভিন্ন আসন থেকে যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিবারই বিপুল ভোটে জয়ী হন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন আদরের নাম পুত্র বধু হিসেবে। বগুড়ার মানুষ তাকে নিজেদের গর্ব বলেই মনে করতেন।
Leave a Reply