বগুড়ার শাজাহানপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাঝিড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান (৪০)কে ঢাকার সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা, হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, জমি দখলসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বগুড়া আদালতে নুরুজ্জামানকে হাজির করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাজধানী ঢাকা শহরে আত্মগোপনে ছিল শাজাহানপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান। আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে সে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে ঢাকা’র সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসে সে আশ্রয় নেয়। সেখানেও তার শেষ রক্ষা হলোনা।
পরিচয় গোপন করে অবৈধভাবে ছাত্রাবাসে অবস্থানের বিষয়টি টের পেয়ে যান ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে আজ বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নুরুজ্জামানকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ অবরুদ্ধ নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।
শাজাহানপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুজ্জামানকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন তথ্য নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওয়াদুদ আলম জানান, নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্রবাজি, হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখলসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ এপ্রিল রাত ৯টায় বগুড়ার শাজাাহনপুর থানাধীন আড়িয়া বাজার এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী মিঠুন হাসান (৩০)কে বার্মিজ চাকুসহ গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। ওই আসামিকে ছিনিয়ে নিতে ওইদিন রাত ১০টার দিকে দলবল নিয়ে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা চালায় নুরুজ্জামান। এতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন।
ওই দিন রাতেই থানা পুলিশ নুরুজ্জামানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নুরুজ্জামানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানকালে ২টি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, ২টি বার্মিজ চাকু, ২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং হামলাকারিদের ব্যবহৃত ৩৬টি মোটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ। থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নুরুজ্জামান জেলা হাজতে আটক থাকার পর সে জামিনে মুক্ত হয়। এরপর ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল।
Leave a Reply