নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া জেলা যুবদল সেক্রেটারী আবু হাসানের বিরুদ্ধে দখল বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে খোদ বিএনপি পরিবারের সদস্যের মধ্যে। এসব অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরে বগুড়া প্ররসক্লাবে শহরের ১৫ নং ওয়াড বিএনপির সভাপতি মরহুম জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মোছাঃ জিন্নাত আরা জেমি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, আমার নানী মরহুমা মোসলেমা সাবেক মহিলা দল নেত্রী এবং আমার দেবর মোঃ জামাল হোসেন ঝন্টু সাবেক সাধারণ সম্পাদক ১২ নং ওয়ার্ড যুবদল বগুড়া। আমি বিগত ১৭ বৎসর হইতে অদ্যবদী একজন নির্যাতিত বি এন পি পরিবারের সন্তান।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে জিন্নাত আরা জেমি বলেন, আজকে নিরুপায় হয়ে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিগত আওয়ামীলীগ ফ্যাবিস্ট সরকারের আমলে মঞ্জুরুল আলম মোহনের ব্যবসায়িক পার্টনার বগুড়া জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি ভূমিদস্যু ফেরদৌস মাহমুদ সেলিমের দ্বারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তৎকালীন সময়ে সেলিম মোহনের ছত্র ছায়ায় এবং বর্তমানে জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে এবং ঐখানে বিহারী সামসাদকে দিয়ে একটি টর্চার সেল বানায়। এই সেলিম আমার দেবর মিনকোকে ক্রসফায়ার করায় এবং আমার স্বামী ও অন্য দেবরকে মিথ্যা বানোয়াট মামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করায় এবং কলোনীতে আওয়ালীগের একক আধিপত্য স্থাপন করে। পরবর্তীতে আমার নিরীহ বড় সন্তানকে তার নানা বাড়ী থেকে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে তাদের টর্চার সেলে নির্যাতন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। সেই সময় অনেক কষ্টে একটি বাড়ী ক্রয় করি। কিন্তু তৎকালীন সময়ে সেলিম তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে আমার ভাড়াটিয়েদের তাড়িয়ে ঐ বাড়ীতে তার লোকজনকে উঠিয়ে দেয়। বর্তমানে ঐ বাড়ীটি হাসানের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী ফ্যাবিস্ট সরকারের পতনের পর সেলিম পালিয়ে গেলেও আবু হাসান সেলিমের নির্দেশে কলোনীতে সেলিমের ব্যবসা- বাণিজ্য, সেলিমের বাড়ী-ঘর দেখাশুনা করছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারী বেলা ১১ টার সময় জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান আওয়ামী যুবলীগ ও তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। আবু হাসান আমার দেবরের কাছ থেকে তার স্ত্রীর নামে জোর পূর্বক সোয়া শতক জায়গা দলিল করে নিয়ে বি এন পির প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার অনুমোদন না নিয়ে আমাদের চারপাশে বেশি করে দখল করে বাড়ী নির্মাণ করছে। পূর্বে সেলিম আমাদের বসত ভিটা দখল করতে না পেরে বর্তমানে হাসানের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করছে। বর্তমানে এই হাসান বি এন পি হয়ে বিএনপি পরিবারের জায়গা দখলে উঠে পড়ে লেগেছে। এই আবু হাসানের বাবা একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি তার স্ত্রী বগুড়া মুক বধির বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
শিক্ষিকা হতে হাল বধিরদের ইশারা বুঝতে হয় ইশারার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আবু হাসান তার প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ম বহিভূত ভাবে চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে নেই। এছাড়া তার কোন নিজস্ব ব্যবসা- বাণিজ্য মেই। কিন্তু সে এত টাকার মালিক কিভাবে হলো কলোনীতে একটি পাঁচ তলা। বাড়ী, ১০ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে আরও একটি বাড়ী নির্মানারীন এবং ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ীতে করে রাজকীয় ভাবে চলাফেরা করছে। তার কোন আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও এত টাকার মালিক কিভাবে হলো।
বিগত বি এন পির আন্দোলন যখন তুঙ্গে রাস্তায় বি এন পি নেতা কর্মিরা গুলি খেয়ে মরছে তখন আবু হাসানের বাসায় রাতে আওয়ামীলীগ নেতা দুলু, সেলিম, ভি পি শাহীন, শান্ত এবং বড় পুলিশ কর্মকর্তারা খাওয়া দাওয়া ও মিটিং করত কিভাবে আন্দোলন দমানো যায়। এই আবু হাসান কখনো জেল খাটেনি এবং আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। আপনাদের কাছে আমার আকুল আবেদন আপনারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমার শেষ আশ্রয় স্থল বাড়ীটি রক্ষা, আমার ক্রয়কৃত বাড়ীটি উদ্ধার এবং আমার পরিবারকে বাঁচান। পরিশেষে আমি বি এন পির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন আপনি আমাদের এই অসহায় বি এন পি পরিবারকে সেলিম ও আবু হাসানের হাত থেকে রক্ষা করুন। আগে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে রেখেছি বর্তমানে জন্য তারেক রহমানের বিচার দিলাম।
Leave a Reply