মর্তুজা ফারুক রুপক, মেহেরপুর
মৃদ তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরম। মাঝে মাঝে বৃষ্টি-মেঘের চোখ রাঙানি। এসব উপেক্ষা করে মুজিবনগরে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বাঁধভাঙ্গা আনন্দে মেতেছে দর্শনার্থীরা।
রোবাবর (৮ জুন) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে লোকে লোকারন্য মুজিবনগর কমপ্লেক্স। ঈদের দিনের তুলনায় পরদিন বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। স্বাধীনতার সূতিকাগার মেহেরপুরের মুজিবনগর বিনোদন পিপাসুদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা হিসেবে গড়ে উঠেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিনোদনের প্রত্যাশায় বাস-ট্রাক, মোটরসাইকেল, নছিমন, করিমন, আলমসাধু, ব্যাক্তিগত কার ও মোটরসাইকেলে চেপে মুজিবনগরে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা।
মাইক, ব্যান্ড ও ভেঁপু বাজিয়ে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শতশত মানুষের ভিড় করছেন মুজিবনগরে। ভ্রমণ পিপাসু এসব মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মুজিবনগর কমপ্লেক্স।
মুজিবনগরে বিশাল আম্রকানন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র, স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন মুর্যাল, সরকারি শিশু পরিবার, ছয় স্তর বিশিষ্ট গোলাপ বাগান, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও ভিড় করছে ব্যাক্তিগত মালিকানায় গড়ে ওঠা পার্ক গুলোতেও।
মেহেরপুরের গাংনীর স্কুল শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, বিনোদনের জন্য সপরিবারে এখানে ঘুরতে এসেছি। এটিই মেহেরপুরের বড় পর্যটনকেন্দ্র। বছরে দুটি ঈদে অন্তত একবার হলেও আসি।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নানাবাড়ি ঈদ করতে এসেছেন শাহীন। মুজিবনগরে বেড়াতে এসেছেন তিনিও। তিনি বলেন, শুনেছি ঐতিহাসিক মুজিবনগরের কথা। কখনো আসা হয়নি। আজ এসেছি, সন্ধা অব্দি থাকবো।
মুজিবনগরের স্থানীয় এক পত্রিকার সাংবাদিক হাসান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সারাবছরই মুজিবনগর কমপ্লেক্সে টুকটাক দর্শনার্থী আসে। তবে কোনো উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ঈদ মৌসুমে অন্তত দশদিন পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি থাকে। তবে গত ১৫ বছরে মুজিবনগরের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিগত সরকার আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার নানান প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো কিছুই করেনি। বরং যা অবকাঠামো আছে তা দিন দিন ধ্বংসের পথে। ফলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিতে কাজ করছে মুজিবনগর থানা ও উপজেলা প্রশাসন।
মুজিবনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পুলিশ রাস্তায় শৃঙ্খলা আনার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করছেন। দর্শনার্থীদের সচেতন কারার জন্য মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়াও সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। পাশাপাশি ৮০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ান সদস্য পুরো কমপ্লেক্স জুড়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে।
Leave a Reply