বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
বঙ্গোপসাগরে মৎস্য গবেষণায় নিয়োজিত আধুনিক গবেষণা জাহাজ ‘আর ভি মীন সন্ধানী’-এর চলমান জরিপ ও গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
শুক্র ও শনিবার সকালে কক্সবাজার উপকূলে সমুদ্রগামী এই জাহাজে সরেজমিন পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনের উপদেষ্টা জাহাজে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি, জরিপের অগ্রগতি এবং সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। জাহাজটি সমুদ্রের গভীরতা, তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, পানির গুণমান ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত রয়েছে।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে গতকাল বিকেলে ইনানি থেকে ৫ নটিক্যাল মাইল গভীর সমুদ্রে ডেমারসাল সার্ভে এবং রাতে কলাতলী থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল গভীরে শ্রিম্প সার্ভে পরিচালনা করা হয়। এ সময় ট্রলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০ প্রজাতির মাছ এবং ১০ প্রজাতির চিংড়ি সংগ্রহ করা হয়। ট্রলিং জালের কার্যকারিতা পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এ সার্ভেগুলো পরিচালিত হয়।
পরিদর্শনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ এবং ‘মীন সন্ধানী’ জাহাজের স্কিপার লে. কমান্ডার শরফুদ্দিন। এ সময় সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক ড. মঈন উদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন।
জানা গেছে, ‘আর ভি মীন সন্ধানী’ এ পর্যন্ত ৫৪টি গবেষণা অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন অঞ্চল ও গভীরতা থেকে মোট ৪৫৯ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ৩৫৩ প্রজাতির মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ৩০ প্রজাতির হাঙর ও হাউস, ২৭ প্রজাতির কাঁকড়া, ৩ প্রজাতির লবস্টার, ১৪ প্রজাতির সেফালোপোড এবং ৬ প্রজাতির সামুদ্রিক সাপ।
বর্তমানে জাহাজটি শ্রিম্প সার্ভে (১০-১০০ মিটার), ডেমারসাল সার্ভে (১০-২০০ মিটার) এবং পেলাজিক সার্ভে (১০-২০০ মিটার) কার্যক্রম চালাচ্ছে।
গবেষণার এসব তথ্য দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
Leave a Reply