বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
প্রতিবছরই মৌসুমের ঝড়-বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জায়গার রেললাইনে গাছ ভেঙে বা উপড়ে পড়ে। এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এবারও তেমন কিছু ঘটনা এরই মধ্যে ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ অবস্থায় রেল কর্তৃপক্ষ, চালক-যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের পূর্ব সতর্কতা জারি, দুর্বল ও পুরনো গাছ আগেই চিহ্নিত করে ছাঁটাই বা অপসারণসহ আরো কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে আখাউড়া-সিলেট রেলপথে যাচ্ছিল ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন। ঝড়-বৃষ্টিতে হঠাৎ-ই রেলপথে বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়লে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পায় ট্রেনটি।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালের। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানায়, সকালে উদ্যান এলাকার রেলপথে হঠাৎ একটি বড় গাছ ভেঙে লাইনের ওপর পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেখানে পৌঁছায়। তবে ট্রেনের চালক তাৎক্ষণিকভাবে গতি কমিয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন, যার ফলে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায়। লাইনের উপর থেকে গাছ সরাতে কাজ করে উদ্ধারকারী দল। কিছুক্ষণ পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকাটি ঘন জঙ্গল ও উঁচুনীচু ভূমি অধ্যুষিত হওয়ায় বর্ষা বা ঝড়ো আবহাওয়ায় গাছপালা ভেঙে রেললাইনে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর আগে একাধিকবার এমন ঘটনা হয়েছে। গত বছর একই এলাকায় গাছ পড়ে রেলের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এদিকে, একইদিন ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি স্টেশনেও এমন ঘটনা ঘটে। গত ২৫ মে ঝড়-বৃষ্টির কারণে রেললাইনে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল, সে ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মে থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় ধরনের দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে ঝড় বা টানা বৃষ্টিতে রেললাইনের উপর গাছ পড়ে ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এর মধ্যে লাউয়াছড়া (মৌলভীবাজার), বেগুনবাড়ি (ময়মনসিংহ), রাজবাড়ী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো বন ও ঘন অঞ্চলগুলোতে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, যাত্রা বাতিল এবং দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভাগ্যক্রমে এসব ঘটনায় প্রাণহানি না হলেও যাত্রী ও রেলসম্পদের ক্ষতি এবং যাত্রী ভোগান্তি বেড়েছে। একইসঙ্গে ক্রমাগত এসব ঘটনার ফলে যারা নিয়মিত রেলসেবা ব্যবহার করেন তাদের ভেতর বেশ উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
রেললাইনে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়াতে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এগুলো হলো- ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চলঘেঁষা রেলপথে বর্ষা মৌসুমে বাড়তি নজরদারি ও ট্রেন চলাচলের পূর্ব সতর্কতা জারি। দুর্বল ও পুরনো গাছ আগেই চিহ্নিত করে ছাঁটাই বা অপসারণের জন্য বন বিভাগ ও রেলওয়ের যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ। ঝড়মুখী অঞ্চলঘেঁষা স্টেশনগুলোতে রেসপন্স ইউনিট প্রস্তুত রাখা ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় নিশ্চিত এবং রেল, বন বিভাগ ও আবহাওয়া অধিদফতরের মধ্যে রিয়েলটাইম সতর্কবার্তা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা চালু করা।
Leave a Reply