নিজস্ব প্রতিবেদক
নদীর স্বচ্ছ জলধারা, দুই তীরে সবুজ গাছপালা ও বালুময় তীর আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এটি রূপ নিয়েছে হঠাৎ এক টুকরো ‘নতুন জাফলং’ এ। এখানকার দৃশ্য কিছুটা সিলেটের বিখ্যাত জাফলং এর মতো হওয়ায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট বাঙালি নদী এ এলাকাকে মিনি জাফলং হিসেবে নাম দিয়েছে আগত দর্শনার্থীরা। জাফলং এর দৃশ্য হওয়ায় ঈদের আগে রোজার মধ্যে থেকেই ফেসবুকে প্রচার হয়ে এখন ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় এখানে হঠাৎ গড়ে উঠেছে মিনি জাফলং। এখানে ঈদের পর থেকেই প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলার ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভিড় করছে। আর স্থানীয় ও আগতরা এখানকার প্রাকৃতিক রূপে মুগ্ধ হচ্ছে। ফলে পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা ব্রিজের নিচে বাঙালি নদীর একাংশ এখন হঠাৎ মিনি জাফলং। সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি নদীর সংস্কার করা হচ্ছে এবং কিছু অংশে পলি জমে যাওয়ার ফলে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথর তৈরি হয়েছে। এ নদীর স্বচ্ছ জল, বালুময় তীর যেন সিলেটের বিখ্যাত জাফলংয়েরই এক প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছে। যা দেখতে অনেকটা জাফলংয়ের পানির শ্রোতের মতো। প্রথমের দিকে স্থানীয় বা জেলার দর্শনার্থী আসলেও এখন বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপ্রেমী মানুষ এখানে আসতে শুরু করেছেন। ঈদের থেকে এখানে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।
এই মিনি জাফলং এ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। নৌকা ভ্রমণ, নদীর স্বচ্ছ জলে গোসল, বালুময় তীরে পিকনিক সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখানে। পর্যটকদের জন্য কিছু অস্থায়ী দোকান বসেছে, যেখানে স্থানীয় খাবার ও পানীয় বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জন্যও কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও খুশি, কারণ পর্যটকদের আনাগোনায় তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে।
স্থানীয় আব্দুল মোমিন জানান, আমরা ছোটবেলা থেকে এই নদী দেখে আসছি, কিন্তু গত ২০ বছরে এমন স্বচ্ছ ও প্রাকৃতিক সুন্দর রূপ কখনো দেখিনি। এখন জায়গাটি পিকনিক ও ভ্রমণের জন্য দারুণ হয়ে উঠেছে। এখানে এখন আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় আজিজুল হক জানান, নদীর পানি এখন খুবই স্বচ্ছ, আর জায়গাটি পিকনিকের জন্য দারুণ হয়ে উঠেছে। এখন শুধু স্থানীয়রাই না আশপাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এখানে আসছেন। কেউ নৌকা ভ্রমণ করছেন, কেউবা নদীর পাড়ে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
জয়পুরহাট থেকে আগত সাকিল ও শফিক জানান, আমরা ঈদের আগে ফেসবুকে এখানকার দৃশ্য দেখতে পায়। দেখে ভালো লেগেছিল। তাই কয়েকজন বন্ধু মিলে চলে এসেছি। এসে দেখে অনেক মানুষের ভীড়। দেখতে কিছুটা সিলেটের জাফলং এর মতো। আমাদের মতো আরও অনেক স্থান থেকে লোকজন ঈদের ছুটিতে এখানে এসে বিভিন্নভাবে আনন্দ উপভোগ করছে।
সুঘাই ইউনিয়নের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুন নবী হিটলার বলছেন, ওই নদীর সৌন্দর্য আগে কখনো এমন ছিল না। এখন সিলেটের জাফলং হয়ে গেছে। জায়গাটি যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে এটি অস্থায়ী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এখানে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম পলা জানান, সুঘাট ইউনিয়নে বাঙালি নদীতে প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন আসছে। সেখানে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেকারণে ঈদের দিন থেকে পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে।
Leave a Reply