নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাথাইল চাপড় গ্রামের সাবেক স্বামী ও তার লোকজনের নির্যাতন, হামলার শিকার হয়ে নানা হুমকিতে অনিরাপত্তায় ভুগছে নাছিমা খাতুন এবং তার বৃদ্ধ বাবা মা। বুধবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নাছিমা খাতুন।থানায় অভিযোগ করলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না।
তিনি লিখিত এক বক্তব্যে আরও বলেন, আমার সাবেক স্বামী মোঃ আবুল কালাম একই গ্রামেই আমাদের বসবাস। তার সাথে বহু বছর আমার সংসার জীবন ছিল। আমার ২জন ছেলে মেয়ে আছে। সংসার জীবনে সামান্য কিছু ঘটনার কারণে সে আমাকে তালাক প্রদান করেন। আমি অত্যন্ত গরিব ঘরের মেয়ে। আমার রোজগার করার মত কেউ নাই। আমার মা, বাবা বৃদ্ধ। তাদের বয়সের ভারে তারাও কাজ কর্ম করতে পারে না। তাদেরও অভাবের সংসার। আমি উপায় কুল না দেখে তাদের বাড়ীতেই অবস্থান নেই। তালাকের প্রায় চার পাঁচ মাস পরে আমার মা বাবার পছন্দের ছেলে কাজিপুর উপজেলার মেঘাই এলাকায় আমি বিবাহ করি। বিবাহের প্রায় ১ মাস পরে বিবাহিত স্বামীকে নিয়ে মাথাইল চাপড় গ্রামে এসে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করি। যে সম্পত্তির উপর আমি বসবাস করি সেটা আমার নানার বাড়ীর সম্পত্তি এবং কিছু আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। বসবাস করা অবস্থায় আমার সাবেক স্বামী মোঃ আবুল কালাম একই গ্রামের হওয়ার কারণে সে তাহা সহ্য করিতে পারে না। মাঝে মধ্যেই আমার সাথে ঝগড়া ঝাটি করার চেষ্টা করে। হঠাৎ করে গত মাসের ২৮ তারিখে তগ্রামে কিছু প্রভাবশালী মাতব্বর এর কুপরামর্শে সাবেক স্বামী ও জাহাঙ্গীর, আব্দুল হান্নান তালুকদারসহ আমার বসত বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার বৃদ্ধ মা, বাবা এবং আমার উপর শারিরীক নির্যাতন চালায় এবং বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে। এসময় ঘরে রাখা নগদ ৩০ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়। পরে আমি বৃদ্ধ মা, বাবাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করি।
অভিযোগর ভিত্তিতে এ, এস আই মোঃ আবু বক্কর তদন্ত করে চলে আসার পরেই পুনরায় আমাদের উপর আক্রমন করেন। আবার ও জিনিস পত্রের ক্ষতি সাধন করেন। আমি যদি থানার অভিযোগ না তুলি তাহলে আমার স্বামী এবং আমাকে জানে মারিয়া ফেলিবে বলে হুমকি দেয়। পুনরায় আমি থানায় গেলে আমার অভিযোগ আমলে না নিয়ে ১২ দিন পরে তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এ, এস আই মোঃ রয়েল উল্টা আমার উপর হুমকি দিয়ে চলে আসেন। আমি বৃদ্ধ মা, বাবাকে নিয়ে নিরাপত্তার অভাবে ভুগছি। আমি গরিব বলেই কি বাংলাদেশে আমাদের জন্য কি আইন নাই। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছি, দয়া করে ন্যায় বিচারের জন্য আমি বাংলাদেশের একজন সু নাগরিক হিসাবে সুষ্ঠ বিচার কামনা করছি। এসময় নাছিমার বাবা আবুল হোসেন ও তার মা উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, অভিযোগ তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply