বগুড়ায় আইএফআইসি ব্যাংকে সিন্দুক ভেঙে ২৯ লক্ষাধিক টাকা চুরি হওয়া ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ । এ ঘটনায় চুরির সাথে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবত্তী এসব তথ্য জানান। গত ৫ দিন বগুড়া জেলায় এবং জেলার বাইরে অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাভেল ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, জেলার সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া এলাকার মৃত সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: পাভেল(২৫), জেলার আদমদিঘী উপজেলার তানশন কুনডুপাড়ার মৃত বিপুল চন্দ্র’র ছেলে শ্রী বিপ্লব সরকার মিথুন ওরফে মিঠু(২৮), গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া এলাকার মৃত ফুল কিশোর রাজভরের ছেলে শ্রী বিমল রাজভর(৩০) এবং বগুড়া সদর উপজেলার বড় টেংড়া হারবালা আদর্শ গ্রামের মৃত ফারাজ মুন্সির ছেলে মো: জাহিদুল ইসলাম(২৯)। লুণ্ঠিত টাকা ক্রয়কৃত মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
এসপি আরও জানান, বগুড়া মাটিডালি এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপ শাখা থেকে গত ১২ জুন দিনগত রাতে সিন্দুক ভেঙ্গে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা নিয়ে যায় দুবৃত্তরা। এ ঘটনার পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে প্রথমে পাভেলকে আটক করা হয়। এ পাভেলের প্রাথমিকভাবে দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে জাহিদুলসহ অন্যদের গ্রেফতার করা। তাদের হেফাযতে থাকা লুণ্ঠিত ১০ লাখ টাকা এবং ওই টাকা থেকে একটি মোটর সাইকেল ক্রয় করেছিল তা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংকের টাকা চুরির ঘটনা ও রহস্য জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এসময় অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, সরাফত ইসলাম, সুমন রঞ্জন সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা ওসি সাইহান ওয়ালিউল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান, অপারেশন ফইম উদ্দিন, মামলার তদন্তকারী কর্মকতা রেদওয়া নুর রহিম।
উল্লেখ্য, ১২ জুন দিন গত রাতে বগুড়ায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপ শাখার সিন্দুক ভেঙে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।
ব্যাংকে এই উপ শাখায় ম্যানেজারসহ ২ কর্মকর্তা আর দুই কর্মচারী মিলে চারজন এখানে কর্মরত। তবে ব্যাংকের এই উপ শাখায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, বুধবার ব্যাংকের সিন্দুকে টাকা রেখে কর্মকর্তারা চলে যায় । বৃহস্পতিবার সকালে কমকর্তারা শাখায় এসে দেখে সিন্দুক ভাঙ্গা। ভেতরে টাকা নেই। তখন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে মাটিডালী এলাকায় দ্বিতল ভবনের উপর তলায় এ শাখা থাকলেও রাতে কোন নৈশ্য প্রহরী ছিল না। এ ভবনের ছাদে অনায়াসে যাতায়াত করা যায়। এঘটনায় ১৩ জুন রাতে অজ্ঞাত নামা আসামী করে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আইএফআইসি ব্যাংকের বগুড়া শাখার ব্যবস্থাপক তাজমিলুর রহমান জানান, দুই দুর্বৃত্ত গায়ে পলিথিন জড়িয়ে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে দ্বিতল ভবনের টিনশেডের সিঁড়ির ঘরের ইট খুলে ভেতরে ঢুকে তালা ও ভল্ট ভেঙ্গে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৬১৮ টাকা নিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মচারীরা শাখা খোলার পর চুরির বিষয়টি টের পান। পরে পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল।
ওই দিন বৃহস্পতিবার সকালে চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আইএফআইসি ব্যাংকের ওই উপ-শাখায় সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। ফলে গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছিলেন।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি বগুড়া সদর উপজেলার পল্লীমঙ্গল হাটে এনআরবিসি ব্যাংকের উপশাখার ভল্ট ভেঙে ৯ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছিল।
Leave a Reply