নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জনতা মেডিকেল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও জনতা ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল
টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদকীয় বোর্ডের সভাপতি, জনতা গ্রুপের চেয়ারম্যান পূর্ব বগুড়ার ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত ডা: আক্কাস আলী (৭৬) এর জানাযা নামাজ শুক্রবার বাদ জুম্মা শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বগুড়ায় তৃতীয় নামাজে জানাযা পুর্ব বক্তব্য রাখেন, বগুড়া বিপিএমপিএ’র সভাপতি ডাঃ এন সি বাড়ৈ। বগুড়া বিএমএ’র ডাঃ সামির হোসেন মিশু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা গোলাম রব্বানী, দৈনিক সাতমাথার বার্তা সম্পাদক সাংবাদিক এফ শাহজাহান, বগুড়া পৌর সভার সাবেক প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আমিনুল ফরিদ, সমাজকর্মী এ্যাড মন্তেজার রহমান আনজু, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ এবং অ্যাক্টিভিস্ট, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এর অ্যাক্টিভিস্ট ও গবেষক এ রহমান।
এসময় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাশার, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শফিক আমিন কাজল,বগুড়া নগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। বগুড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শোকরানা, প্রকৌশলী হামিদুর রহমান হিরু
সহ রাজনীতি ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষীগণ, মুসল্লীগন উপস্থিত ছিলেন। নামাজে জানাযা নামাজ শেষে দোয়া এবং করেন আলতাফুন্নেছা মসজিদের খতিব।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম জানাযা নামাজ ঢাকা সেনানিবাস সিএমএইচ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নামাজে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং অন্যান্য বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর দ্বিতীয় জানাযা নামাজ ঢাকা বারিধারা জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নামাজে
এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, মিলিটারি অ্যাটাশে (ডিএ) জেনারেলরা অংশ নেন. ফিলিস্তিনের মাননীয় রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান; সৌদি আরবের মাননীয় রাষ্ট্রদূত এসা ইউসেফ এসসা আলদুহাইলান, রাজকীয় সৌদি সেনাবাহিনীর জেনারেল মুনিফ আলহারবি,লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুত্তালিব এস এম সুলাইমান, ইরাকের সাবেক ভাইস কাউন্সিল জালাল মৌসাবির; ইউনিয়ন অব মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ে; ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের কূটনীতিক, ভারতীয় হাই কমিশন, রাশিয়ান দূতাবাস এবং ঢাকাস্থ অন্যান্য পশ্চিমা দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে; এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। কাতারের রাষ্ট্রদূত সেরাইয়া আলী আল-কাহতানি; পাকিস্তানি হাইকমিশন এর ডিএ জেনারেল মুহাম্মদ ইমরান ইউসুফ চৌধুরী, মালয়েশিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, লিবিয়ান, ইরাকি কূটনীতিক; ব্রুনাইয়ের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওথমান, ডেপুটি হেড অব মিশন রাজাইমি আব্দুল্লাহ; জিবুতির অনারারি কাউন্সিল আবদুল হক; মাননীয় পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি; বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানাজায় অংশ নেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতির সাবেক সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় (বঙ্গবভন); লিবিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত; পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি; এফবিসিসিআই, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, রোটারি ক্লাব, লায়ন্স ক্লাব, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সংবাদপত্র ও মিডিয়া; সাবেক প্রবাসী; জনতা মেডিকেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সাবেক শিক্ষার্থীরা জানাজায় অংশ নেন।
ডাঃ আক্কাস আলী গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টার ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
উল্লেখ, মরহুম ডাঃ আক্কাস আলীর সহধর্মিনী আছিয়া রানী আক্কাস ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী। তিনি বগুড়া রোটারী ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং টিএমএসএস এর নির্বাহী সদস্য হিসাবে নানা সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলেন। ডাঃ আক্কাসের ছিল বর্ণাঢ্য এক কর্মময় জীবন। তিনি ১৯৭২ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় ফ্রান্সের বাম হাসপাতালের (ব্রাদার্স টু অল মেন প্যারিস ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা) প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক ছিলেন।
আশির দশকে লিবিয়ায় কর্ণেল গাদ্দাফির আমলে সামরিক স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সময় ইরাকী স্বাস্থ্য দফতরেও চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জনগণের সেবার কারণে প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্নেহধন্য ছিলেন তিনি। ডাঃ আক্কাস আলী ১৯৮৪ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেডিয়াট্রিকস বিষয়ে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটি (এমএএসএস), বগুড়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, বিপিএমএর সদস্য এবং লায়ন্স ক্লাব কর্মকর্তাসহ নানা জনহিতকর কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। পড়াশোনা, চাকরি এবং নানা সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের ৪০ টিও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।
মরহুম ডাঃ আক্কাস আলীর জন্মস্থান রাজশাহীতে দুইটি জানাযা শেষে বগুড়া সারিয়াকান্দিতে পারিবারিক কবরস্থানে তার সহধর্মিণী আছিয়া রানী আক্কাসের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
Leave a Reply