বগুড়ায় নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের ধারালো অস্ত্রে এলোপাতাড়ি নির্মম আঘাতে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মিজানুর রহমান মিজানকে দাফন করা হয়েছে। হাজার হাজার শোকাতর মানুষ দুফোঁটা চোখের পানি ফেলে বগুড়ায় স্বেচ্চাসেবক দলের নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে বিদায় জানালো
মঙ্গলবার বিকেল ৫ টায় গোকুল গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দলের লোকজন ছাড়াও কাছের ও দুরের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ হেলালুজ্জামান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা, সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে গোকুল উত্তরপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে মিজানকে দাফন করা হয়।
দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকে মিজানের মরদেহ গোকুল উত্তরপাড়ায় তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে তাকে এক নজর দেখার জন্য চারিদিক থেকে নারী পুরুষ সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছুটে আসে।
নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিকার মিজানের ছোট্ট কন্যা আর তার স্ত্রীর আহাজারিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আসছে। তাদের আহাজারি দেখে কো মানুষ চোখের জল না পেলে ফেরতে পারেনি। সন্তান স্ত্রী আহাজারি করতে করতে মুর্ছে যাচ্ছে আবার কখনো জ্ঞান হারাচ্ছে। আগত
সহস্রাধিক মানুষ মিজানের সন্তান, স্ত্রীকে একটু শান্তনা দেওয়ার কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।
শেষ বারের মত মিজানের মুখ দেখার পর প্রতিটি মানুষের চোখ ভিজেছে শোকে। কারন মিজানের নিজ গ্রাম গোকুল ও আশেপাশের গ্রামের মানুষের বিপদ আপদে মিজান ছিল তাদের বড় অবলম্বন ও ভরসা।
গোকুল এলাকার বাসিন্দা ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার জানান, মিজানুর রহমান মিজান একজন পরোপকারী তরুন সংগঠক ছিলেন। মিজান দলের বাইরেও এলাকার সকল মানুষের উপকার করেছে নানাভাবে। কোন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং কোন রোগীর রক্ত লাগলে, সেগুলো মিজান নিয়ে যেতে এবং রক্ত দাতা সংগ্রহ করে অসুস্থ রোগীকে দিত। মিজানের অভাব এলাকার মানুষ কোনদিন হয় পুরুন হবে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, মিজানুর রহমান মিজানের সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলনে তার সাহসিকতার মধ্য দিয়ে দেশে যখন পরিবর্তন এলো তখন তার সুফল ভোগ করার আগেই তাকে বিদায় নিতে হলো। এ নি্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইহান ওয়ালিউল্লাহ জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ দুইটি হত্যাকাণ্ডের কোনটাই অভিযোগ মঙ্গলবার রাত ১০ টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিজানের পরিবারের সাথে কথা হয়েছে তারা জানাযা নিয়ে ব্যস্ত, তারা রাতের মধ্যে অভিযোগ দেবে বলেছে। এই হত্যাকাণ্ডে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
Leave a Reply