নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার সোনাতলায় বিএনপি নেতার হামলায গুরিতর আহত যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান(২৭) মারা গেছেন।শুক্রবার (১৪ ফেব্রুযারী) সন্ধ্যায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এর আগে গত শুক্রবার (৭ ফ্রেবুয়ারী) সন্ধ্যায় সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় প্রতিপক্ষের মারপিটে গুরুতর আহত হন রাশেদ। নিহত সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য।
পাকুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হাসান নারুন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা রাশেদ মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান বাটালুর নেতৃত্বে তাঁর লোকজন ধাওয়া করে। রাশেদ মোটরসাইকেল ফেলে রেখে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেই পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নান বাটালু জানান ‘জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান জুয়েল ২৯টি মোটরসাইকেলযোগে ৭০ থেকে ৮০ জন বহিরাগত সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে আসেন আমাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে। তাঁরা চলে যাওয়ার সময় দুটি গুলিবর্ষণ এবং দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। যাওয়ার সময় তাঁরা দুটি রামদা ফেলে রেখে যান। মাজেদুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে যুবদল নেতা রাশেদ ছিলেন। সন্ধ্যায় কে বা কারা রাশেদকে মারপিট করে আমার ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।
জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান জুয়েল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পাকুল্লা আমার গ্রামের বাড়ি। শুক্রবার গ্রামের মসজিদে আমি ইমামতি করি। এরপর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আমাদের মোটরসাইকেল বহরে থাকা যুবদল নেতা মেহেদী হাসান হিরুকে বাটালুর লোকজন মারধর করে। ঘটনাটি সেখানেই মীমাংসা হয়ে যায়। আমি শহরে চলে আসার পর সন্ধ্যায় যুবদল নেতা রাশেদকে বাটালুর নেতৃত্বে মারধর করা হয়।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন্নবি জানান, পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই জের ধরেই রাশেদুল হাসান নামের একজনকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। তিনি আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান। রাশেদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
Leave a Reply