বগুড়ায় ৫ দিন পর জেলার ১২টি থানায় পুলিশের সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা অভ্যন্তরীণ কাজ করতে দেখা যায়৷ তবে সব থানা পুলিশ বাহিরে টহল দেয়া থেকে বিরত রয়েছে। জেলার সকল থানায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার জাকির হাসান বিপিএম।
এর আগে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা গত রোববার ও সোমবার বগুড়ার বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। এ সহিংসতায় জেলার মধ্যে বগুড়া সদর ও দুপচাঁচিয়া থানায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় জেলার সকল থানার কার্যক্রম। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে দেশ জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশের বৈষম্যবিরোধী কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি।
সমন্বয় কমিটির দেওয়া ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পুলিশ সদস্যরা।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি
আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের থানা ক্ষতিগ্রস্ত। এলাকায় খুব বেশি লোকজন নেই। আমরা থানাতে কার্যক্রম শুরু করেছি৷ তবে শুধু মাত্র অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সেলিম রেজা বলেন, আমাদের থানার কার্যক্রম চালু হয়েছে। টহল বাদে সব ধরণের কার্যক্রম চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, আমার থানায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা শুরু থেকে থানাতেই আছি। আজ থেকেই খুব সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে বাইরের কার্যক্রমে এখনও পুলিশ শুরু করেনি।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক ফইম উদ্দিন জানান, সহিংসতায় বগুড়া সদর থানায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় ওই ভবনের বসা অবস্থা নেই। তাই সদর থানার কার্যক্রম পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলায় দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি থানায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনা সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। আমরা পুলিশের সাথে আলোচনা মাধ্যমে চেষ্টা করছি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার জাকির হাসান বিপিএম বলেন, জেলনর ১২টি থানায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। থানার নিরাপত্তায় সেনা সদস্যরাও কাজ করছে। সদর থানা পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় সেখানে বসার মত কোন পরিবেশ নেই ৷ তাই সদর থানার কার্যক্রম গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কার্যালয়ে চলছে।
উল্লেখ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতার কারনে ও অনিরাপত্তার জন্য ৫ আগস্ট রোববার বিকেল থেকে জেলার ১২ টি থানার কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
Leave a Reply