সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করার অভিযোগে ৬ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, যমুনা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, এসবি রেল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আবু সামা, বাহুকা কলেজের প্রভাষক বাচ্চু কুমার ঘোষ, জনতা ব্যাংক জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার ইয়াসির আরাফাত এবং শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অমিনুর ইসলাম।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সোমবার রাত ১০টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান। ওই সভায় পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল, সদর-কাজিপুর-বেলকুচি উপজেলার প্রথম স্তরের উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সদর উপজেলার কাঁদাই গ্রামে গার্ডেন প্যালেস রিসোর্টে রোববার রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, পুলিশ সুপার নিজেই তার গোয়েন্দা টিম নিয়ে কাজ করছেন। তদন্ত শেষ হলেও খুব দ্রুত অভিযুক্ত প্রার্থীও নাম প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, নির্বাচন অফিসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনা গভীর তদন্ত চলছে। তদন্তে আরও কয়েকজন প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের অভিযুক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম আপাতত প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গার্ডেন প্যালেস রিসোর্টে রোববার রাতে এক প্রার্থীর সঙ্গে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের গোপন বৈঠকের ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ওই প্রার্থীকে নির্বাচনের কমিশনের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া, ছয়জন প্রিসাইডিং-পোলিং অফিসারদের গ্রেপ্তারসহ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
রিটার্নিং অফিসার আরও বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সরকারি রাশিদাজ্জোহা মহিলা কলেজ, হাজী ওমর আলী কওমী মাদ্রাসা, এসবি রেল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, পাইকপাড়া মডেল স্কুল এবং হরিনা বাগবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব ছিলেন। মামলা ও গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তদের নির্বাচন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এরই মধ্যে নতুন কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রেস বিফ্রিংয়ে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রার্থীর নাম প্রকাশে অনিহা দেখালেও দুপুরে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনের শোকজ পত্রে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘গত ৫ মে রোববার রাতে কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাঁদাই
গ্রামে গার্ডেন সিটি প্যালেস রিসোর্টে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কতিপয় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের আপনার পক্ষে কাজ করতে অর্থপ্রদানের চেষ্টা করেছেন। এ মর্মে আপনার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ ইউসুফ জুয়েল অভিযোগ দেন। নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের আরও কিছু অভিযোগে আপনাকে শোকজসহ ১২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে জবাব চাওয়া হলো।’
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি রতনকান্দি হাটের বিধি বহির্ভূত ইজারার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর পত্র দেই। মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করি। ওই ঘটনায়
স্থানীয় প্রশাসন আমার প্রতি ক্ষুব্ধ। এ কারণে আমাকে হেয় করার অপচেষ্টা চলছে।
Leave a Reply