রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া থেকে
বগুড়ায় কোটি টাকা ছুঁলেও খেতে পারলেন না, ধরে রাখতে পারলেন না এক রিক্সাচালক। আর ঐ কোটি টাকা চলে গেছে গাবতলীর টাউট বাটপারসহ বিভিন্ন মুখোশধারীদের পেটে ও পকেটে! আর নিঃস্ব রিক্সাচালককে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে প্রতিমুহূর্তে। ঘটনাটি বগুড়ার গাবতলীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
একই সাথে কোটি টাকা পাওয়া রিক্সাচালককে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা লোপাটের হোতা মুখোশধারীরা প্রশাসনের ছায়ায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলেও অভিযোগ।
অপরদিকে উল্টো ওই রিক্সা চালককে দুইদিন ধরে থানায় আটক রাখা ও পুলিশের মারপিটের শিকার হতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগী রিক্সাচালক জানিয়েছেন। অথচ যেসব টাউট বাটপার কোটি টাকা লোপাট করেছেন তাদের কাউকে আটক করা হয়নি অজানা কারণে। লক্ষ লক্ষ টাকায় স্থানীয় মেম্বার এর মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী রিক্সা চালক গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের জাতহলিদা গ্রামের মোঃ বাদলের পুত্র মিহির আলী (২৫)। মিহির জানান, দীর্ঘদিন যাবত তিনি বগুড়া শহরে খান্দার এলাকায় থেকে অটোরিকশা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আনুমানিক ৬/৭ মাস আগে শহরের খান্দার পাসপোর্ট অফিস এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তিনি বস্তা ভর্তি টাকা পান। ওই টাকা থেকে অপর বন্ধু যে ঘটনাটি জেনে যায় তাকেও দিয়ে দেন। এরপর মিহির আলী তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নে জাতহলিদায় দাদির বাড়ির ঝুপড়ি ঘরের মাটির নিচে ২টি হাঁড়িতে করে ৫৪ লক্ষ টাকা পুঁতে রাখেন। এরপর সে আর রিক্সা না চালালে স্থানীয় টাউট রনি মিয়া -পিতা মোঃ লাভলু মিয়া। রেজুয়ান -পিতা মৃত মিজদুর রহমান, আপেল মাহমুদ -পিতা কিটু মন্ডল জিজ্ঞেস করেন, কি ব্যাপার এতো টাকা পাস কই ? তুই তো আর রিকশাও চালাসনা । এ সময় সে তাদের বলে , আমার কাছে বস্তা ভর্তি টাকা রয়েছে বলে নিজের অজান্তে বলে দেন। পরে ওই টাউটরা মিহির আলীকে রাতের অন্ধকারে সারিয়াকান্দির চরে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ তার ৩/৪ জন সহযোগী
এর মাধ্যমে হাত-পা বেঁধে হত্যার ভয়-ভীতি দেখায় এবং টাকা কোথায় রেখেছিস বলে জানতে চায়। টাকা না পেলে তোকে হত্যা করা হবে বলেও জানায়। এ অবস্থায় সে জীবন বাঁচানোর তাগিদে উল্লেখিত স্থানের কথা বললে রনির পিতা লাভলু সহ এসব টাউট বাটপাররা তার ঘরে রাখা ৫৪ (চুয়ান্ন) লক্ষ টাকা নিয়ে যায়।
টাকার শোকে মিহির আলী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ জুয়েল এর কাছে টাকা ফেরত চেয়ে বিচার-সালিশের চেষ্টা চালায়। মিহির আরো বলেন, ধুরন্ধর মেম্বার জুয়েল অভিযুক্তদের কাছে থেকে মোটা অর্থের বিনিময়ে নিরব ভূমিকা পালন করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে মেম্বার জুয়েল মিয়া গাবতলী থানা প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হন। আর এই সুযোগে অজানা ঘটনা ঘটতে থাকে মিহির আলীর সঙ্গে।
এরপর গাবতলী থানার এসআই সামিউল তার ওপর দুইদিন ধরে নির্যাতন চালান বলে জানিয়েছেন মিহির।
তবে এ প্রতিবেদক জুয়েল মেম্বারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কিছুই জানেন না বলে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে বিষয়টি তিনি জানেন এবং তার মাধ্যমেই মিহির আলীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এবিষয়ে যারা তার টাকা নিয়েছেন তাদেরকে আটক না করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার মালিক রিক্সাচালক কে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কোন অভিযোগ না থাকলেও কেন দুইদিন ধরে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়। এসময় গাবতলী থানার এসআই সামিউল এ প্রতিবেদককে মোবাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি ওসি সাহেব জানেন, প্রয়োজনে আপনি থানায় এসে ওসি সাহেবের কাছ থেকে জানতে পারেন বলে জানান।
গত ২৩ মে ২০২৪ গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ, টাকা পাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমরা মিহির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছিলাম এবং খান্দারের ওই ঘটনাস্থলে আমি সহ আমার সার্কেল মহোদয় গিয়েছিলাম এসপি স্যারের অনুমতি ক্রমে। কিন্তু ওই টাকার মালিকদের কোন অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি ওই পর্যন্তই শেষ করা হয়। মারপিট এবং দুই দিনের আটক রাখার ঘটনা সত্য নয় বলেও তিনি জানান।
Leave a Reply