বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজ’র সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ, কমিউনিটি পুলিশিং বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য সচিব, বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ বগুড়া জেলা কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহাদাত আলম ঝুনু (৬০) জানাযা নামাজে মুসল্লীদের ঢল। বুধবার রাতে বগুড়া শহরের এম এস ক্লাব মাঠে মরহুম ঝুনুর জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় ভাই পাগলা মাজার গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। শাহাদাৎ আলম ঝুনু
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গরবার ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায় ইন্তেকাল করেছিলেন। মরহুমের জানাযা নামাজে সর্বস্তরের মুসল্লীগণ অংশগ্রহন করে। মুসল্লীদের উপস্থিতিতে এম এস ক্লাব মাঠ কানায় কানায় পুর্ণ হয়েছিল। অতীত কারো জানাযা নামাজে এত মুসল্লীদের উপস্থিতি হয়নি।
এর আগে শাহাদাৎ আলম ঝুনুর মরদেহ সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল থেকে বিকেলে শহরের মালতিনগরের নিজ বাসায় আনা হলে। সেখানে আগে থেকে জমায়েত হওয়ার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী, আবাল বৃদ্ধ বনিতারা এক নজর দেখার জন্য ভীড় করে। ঝুনুর মরদেহ বাসার সামনে আসা মাত্র স্বজনদের আহাজারিকে এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে এসেছিল।
মঙ্গলবার সকালে বগুড়া জেলা কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক মহোদয়দের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট নিয়ে যাওয়ার সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পথিমধ্যে সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মহোদয় অধ্যক্ষ শাহাদাৎ আলম ঝুনু কে মৃত ঘোষণা করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে বগুড়া জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, শাহাদত আল ঝুনু অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার অবস্থার অবনিত হলে তাৎক্ষনিক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ইউনাইটেড হার্ট স্পেশালিস্ট হাতপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি কারাগারে অবস্থানের সময় দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি ঢাকায় যাওয়ার পথে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষনা করেন।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, শাহাদত আলম ঝুনু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদত আলম ঝুনুকে দুটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত দুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দুটি করা হয়। এসব মামলায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
শাহাদাৎ আলম ঝুনুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। সেইসাথে শাহাদাৎ আলম ঝুনু’র কর্মময় স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply