নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর পর শ্বশুর ও তার স্বজন বিএনপির নেতা আবু আসাদের নানা চক্রান্তে হয়রানি স্বীকার হয়ে সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এসব অভিযোগ এনে জেলার গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের মোছা: ইসরাত জাহান জেমি সংবাদ সম্মেলন করেন। রোববার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আমি একজন অসহায় নারী। স্বামী সন্তানকে হারিয়ে আমার প্রাপ্য অধিকার পেতে আপনাদের সহযোগিতার জন্য শরনাপন্ন হয়েছি। আমার বাবার বাড়ি গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামে। আমার শ্বশুড় বাড়ি একই উপজেলার খুপি মন্ডলপাড়া গ্রামে। আমার স্বামী আরিফুর রহমান সোহেল একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরন করেন। আমি স্বামীর শোকে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি এবং আমার একমাত্র দেড় বছর বয়সের সন্তান আব্দুল্লাহ আরফাজ জেনানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করতে থাকি। আমার স্বামী তার বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের মধ্যে তিনটিতে আমাকে নমিনি করে এবং ২টিতে আমার দেওরকে নমিনি করে। আমার শ্বশুড় খুপি মন্ডলপাড়া গ্রামের সাবেক বিডিআর সদস্য সাইদুর রহমান নানু। আমার স্বামীর একাউন্ট থেকে টাকা তুলে তাকে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমার শ্বশুড় এবং ননদসহ শ্বশুড় বাড়ির লোকজন আমার উপর অত্যাচার করতে থাকে। আমার বেশ কিছু টাকা স্বর্নালংকার এবং মোবাইল ফোন চুরি করে আমার ননদরা। এক পর্যায়ে আমি আমার স্বামীর একাউন্ট থেকে টাকা তুলে না দেওয়ায় গত বছর ৫ অক্টোবরে প্রচন্ড মারধর ও নির্যাতন করতে থাকে। আমার উপর নির্যাতনের কথা প্রতিবেশিদের মাধ্যমে আমার ভাই শহিদুল ইসলাম জানতে পেরে পরেরদিন আমার শ্বশুড়বাড়িতে আসেন এবং আমার জীবনের নিরাত্তহীনতার
কারনে আমাকে বারার বাড়িতে নিয়ে যান। এর ২দিন পর গত বছর ৭ অক্টোবর সন্ধায় আমার ভাই শহীদুল ইসলাম বাড়ি থেকে গাবতলী যাওয়ার পথে সোনারায় ইউপি ভবন এলাকায় ওতপ্রেতে থাকা আমার শ্বশুড়ের আত্মীয় গাবতলীর কাগইল দড়িপাড়া এলাকার চিহ্নিত দুস্কৃতিকারী ও ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আছাদের সহায়তায় আমার ভাইকে অপহরন করে আমার শ্বশড়বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখে এবং মারধর করে। আমার ভাইকে সাদা স্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং আমার ভাইয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আমার ভাইকে উদ্ধার করে। আমার ভাইকে অপহরন এবং আমাকে নির্যাতনের ঘটনায় গত বছর ৮ অক্টোবরে গাবতলী থানায় আমার ভাই একটি মামলা করেন। গাবতলী থানা পুলিশ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ চার্জশিট প্রদান করেছে। অপরদিকে আমার ছেলে নিমুনিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য আমার স্বামীর হিসাব নম্বর থেকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি আমি যাতে টাকা তুলতে না পারি সেজন্য আমার শ্বশুড় ব্যাংকে নানা প্রকার মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। যার কারনে টাকা তুলতে পারিনা। আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ায় আমার দুই ভাই শহীদুল ইসলাম ও রাজু আমম্মেদ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করায়। কিন্তু আমার শ্বশুড় বা শ্বশুড়বাড়ির কেউ একবারের জন্যও নাতিকে দেখতে হাসপাতালে যাননি। ঢাকায় চিৎিসাধীন অবস্থায় গত বছর ৯ ডিসেম্বরে আমার সন্তান মারা যান। আমি স্বামী ও সন্তানের শোক সইতে পারছিলাম না। এদিকে আমার শ্বশুড় আমাকে আমার স্বামীর অর্থ সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে আবু আছাদের যোগসাজসে চক্রান্ত করছেন। ফলে আমি দুর্বিষহ জীবন যাপন করছি। আমার স্বামী তার ভাইকে নমিনি করে যে টাকা রেখে গেছেন তা তুলে আমাকে দেয়ার কথা কিন্তু দেয়া হচ্ছেনা। সম্পত্তি থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমতবস্থায় আবু আছাদ ও আমার শ্বশুড়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।
Leave a Reply