নববর্ষের দ্বিতীয় দিনে বগুড়ায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সুর্যের দেখা মেলেনি। আর তাপমাত্রা নেমে চলতি মৌসুমে সর্বনিম্নে এসেছে। সেকারনে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এমন অবস্থায় শীত বাড়ায় শিশু ও বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শীতজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ শ্রমজীবিরা।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। তারা জানান, কাজ না করলে খাওয়া নেই, তাই যত শীত হোক বের হতেই হবে, তবে এখন বাতাস আর কুয়াশা থাকার কারণে কষ্ট হচ্ছে, এখনো কেউ শীত বস্ত্র নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াইনি কেউ বলে জানিয়েছেন নির্মাণ শ্রমজীবিরা।
কুয়াশার কারণে রেলওয়ের সান্তাহার টু লালমনিরহাট রুটে প্রতি ট্রেন চলাচলের বিলম্ব হয়েছে। বিকেল ৪ টার ট্রেন বৃহস্পতিবার বগুড়া রেল স্টেশনে ৪.৫০ মিনিটে এসেছে। যাত্রীরা অনেক সময় ট্রেনের জন্য উপেক্ষায় ছিল।
হঠাৎ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে শহরের মোটা কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে সকাল থেকেই। দোকানীরাও এ সময়ের জন্য উপেক্ষা ছিল। সবচেয়ে শহরের হকার্স মার্কেট ও রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ সুপার মার্কেটে নিম্ন আয়ের মানুষরা শীতের কাপড় কেনাকাটা করতে ছুটেছেন।
বগুড়া শহরের রিকশা চালক বেলাল হোসেন জানান, সকাল থেকে কুয়াশায় ঢেকে থাকার কারণে শীত বেড়েছে। সাথে শিরশিরনী বাতাস শরীর কাঁপন দিয়ে যাচ্ছে। এতে রিকশা চালানো কষ্টকর হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই, সকালে গ্যারেজ থেকে রিকশা বের করলেও পুরো ভাড়া দিতে হয়। তারপর সংসারের খরচ ও কিস্তির টাকা যোগাড় করতে হয়। সেজন্য এত শীতের মধ্যে বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে।
বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান মানিক জানান, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই কুয়াশা বেড়েছে। তবে বুধবার দুপুরের দিকে কিছুটা রোদ দেখা দিয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কুয়াশা বেড়ে যাওয়ায় এবং সারাদিনে সুর্য না দেখা দেওয়ায় চালকদের গাড়ি চালানো করতে কষ্ট হচ্ছে। কুয়াশা কারণে গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েও ১০ হাত দুরে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এসময় কোচ গুলো সময় মতো গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।
বগুড়ার বাস চালক খায়রুল ইসলাম জানান, বগুড়া টু রংপুর সড়কে চলাচল করি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কুয়াশার কারণে দুই হাত পর পর দেখা যায় না এ কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ধীরগতিতে চলাচল করতে গিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, তাপমাত্রা নেমে আসার কারণে জেলায় শীতে তীব্রতা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় এ জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই এখন পর্যন্ত এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগের দিন জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যখন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে তখন তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলে।
তিনি আরও জানান, এখন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। তখন শীত আরও বেড়ে যাবে।
Leave a Reply