নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় ঈদের রাতে জোড়া হত্যা ও গুলিবিদ্ধের সাথে যারা জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রোববার দুপুরে শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন কর্মসুচি পালন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বগুড়ায় এখন খুনের নৈরাজ্য চলছে। কথায় কথায় মানুষকে খুন করছে। অতীতে এমন ঘটনা কখনো দেখা যায়নি। জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামী মিঠু ও তার ছোট ভাই টিপু তাদের লাইসেন্সধারী পিস্তল আছে। সেজন্য তারা কথায় কথায় মানুষকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতা ঈদের রাতে শরিফ ও রোম্মানকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা। তাই জোড়া হত্যা মামলা আসামী সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু, তার ছোট ভাই সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপু, কাউন্সিলর হিমুসহ সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মিঠু টিপুদের সরকার অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছিল আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু তারা আত্মরক্ষার না করে অযাথায় অন্যায়ভাবে মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে। তারা অস্ত্রের অব্যবহার করছে। আমাদেরকেও অস্ত্র দেন, আমরা আত্মরক্ষার করবো। এদেশে আইন আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। এসব আসামীরা প্রভাবশালী, মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবের অপ্রচেস্টা চালাচ্ছে। এ জোড়া হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার করে ন্যায় বিচারের স্থানীয় প্রশাসনসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত শরিফের বড় ভাই রিপন শেখ, ভাবি রহিমা বেগম, স্থানীয় যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, এলাকাবাসী সুমন, রুমন, রোকন, আলামিন প্রমুখ।
এর আগে, চলতি মাসের ১৭ জুন রাতে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়ায় পূর্ব পরিকল্পনা মতে এলাকায় পরিচিতি জনকে দিয়ে মোবাইল ফোনের শরিফ ও রুম্মানকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। এরপর দুইজনকে সামান্য দুরত্বে দুই স্থানে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে অভিযুক্তরা বীর দর্পে স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় হোসেন শেখ নামের আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩ রাউন্ড গুলির খোষা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দিন মঙ্গলবার রাতে এ জোড়া হত্যাকান্ডে দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহমেদ মিঠু, তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা সার্জিল আহমেদ টিপু, তৃতীয় বর্তমান কাউন্সিলর ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের বগুড়া শাখার সাবেক সভাপতি শাহ মেহেদী হাসান হিমু ও তাদের সহযোগী ১৩ জনের নামে ১৪/১৫ জন অজ্ঞাত আসামী করে জোড়া হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) শাহিনুজ্জামান জানান, হত্যাকান্ডের প্রধান আসামীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। সোমবার রিমান্ড আবেদন শুনানি হবে। এ জোড়া হত্যা মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply