দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর ক,দিন বাদে শুরু হবে এ দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তকুলের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে পূজা মন্ডপ গুলো। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় বগুড়া জেলায় মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। শেষ মুহূর্তে প্রতিমা শিল্পীরা বিরামহীন কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় দুর্গা দেবীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছেন। একটুও ফুরসুত নেই তাদের। অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবীকে বরণ করে নেয়ার নানা সব প্রস্ততি। ২ অক্টোবর বুধবার হতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চন্ডি পাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে মর্ত্যে আহবান জানিয়ে মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও চলতি মাসের ৯ তারিখ হতে মহাষষ্ঠীর দিনে ঢাক এবং কাঁসর বাজিয়ে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার মুল আনুষ্ঠানিকতার উৎসব শুরু হবে। দেবীর আশীর্বাদ নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তকুল। ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবীকে বিসর্জন দেয়ার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এ দুর্গাপূজার আনুমানিকতা। এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নতুন কাপড় সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনাকাটা করতে বিপনী বিতান গুলোতে ছুটছেন তাঁরা।
বগুড়া জেলায় এ বছর ৬২৭টি মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা প্রশাসন। সভায় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পূজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে পূজার সময় কাছে আসায় প্রতিমা প্রস্তুতে কারিগররাও ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। শহরের কয়েকটি স্থানে মৃৎশিল্পীরা মাটির কাজ শেষে রং লাগানের কাজে মনোযোগ দিয়েছেন। যথা সময়ে প্রতিমা মন্ডপে তোলার লক্ষ্য দিনরাত কাজ করেছেন কারিগররা।
প্রতিমা কারিগর বিকাশ চন্দ্র জানান, আমার বাবাও প্রতিমা শিল্পী, বাবার এখন বয়স হয়েছে,সেজন্য বেশি সময় দিতে পারেন না। দুর্গাপুজা দরজায় কড়া নাড়ছে, তাই প্রতিমা তৈরি কাজ সম্পন্ন করতে অনেক ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করতে হচ্ছে। সময় মতো প্রতিমা মন্ডপে তোলার লক্ষ্য দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু রায় জানান, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় ৬২৭টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বগুড়া সদর উপজেলায় ১১৭টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকবে। এছাড়া শেরপুরে ৮৬টি, আদমদীঘিতে ৬৩টি, গাবতলীতে ৬৩টি, শিবগঞ্জে ৫৩টি, শাজাহানপুরে ৪৮টি, নন্দীগ্রামে ৪৫টি, দুপচাঁচিয়ায় ৩৯টি, সোনাতলায় ৩৫টি, ধুনটে ২৮টি, কাহালুতে ২৭টি এবং সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন দেওয়া, নামাজের সময় উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র না বাজানোর জন্য প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এদিকে মণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।
কাহালু উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অন্জন কুমার প্রাং জানান, দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা শান্তি পূর্ণ ভাবে পূজা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারবো।
বগুড়া পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা জানান, জেলায় দুর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতিমধ্যে গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যদের মৌখিক প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে। পুজা মন্ডপগুলোতে গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীও টহল দেবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা দিবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দর্শণার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পুজা দেখতে পারে সেদিকে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো হবে। এছাড়াও পুজার দিনগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহে যত্ন নিতে বলা হয়েছে।ছিনতাই চুরি ঠেকাতে পুলিশ টহল বাড়ানো হবে। তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান। এলক্ষ্যে প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলো সংস্কার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply