বগুড়ার ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউর রহমান জ্যোতিকে ৬ বছর আগে গুলি করে হত্যার অভিযোগে স্থানীয় দুই সাবেক এমপি, দুই ডিআইজিসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত বিএনপি নেতার ছেলে রওশন জামিল রাসেল বাদি হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। শফিউর রহমান জ্যোতি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের প্রতাব খাদুলী গ্রামের মৃত মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে।
ওই মামলায় বগুড়া-৫ আসনের (শেরপুর-ধুনট এলাকা) সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান, তার ছেলে আসিফ ইকবাল সনি, সাবেক আইজিপি মোহাম্মাদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার, বগুড়ার সাবেক পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুইয়া, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, ধুনট থানার সাবেক ওসি ইসমাইল হোসেন, শেরপুর থানার সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির, সাবেক ওসি (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম ও ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সেলিমসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শফিউর রহমান জ্যোতি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ অবস্থায় সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান ২০১৯ সালের প্রথক দিয়ে বিএনপি নেতা জ্যোতিকে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে বলেন। কিন্ত শফিউর রহমান জ্যোতি এমপির কথায় রাজী হননি।
এতে শফিউর রহমান জ্যোতির উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এমপি হাবিবর রহমান। এক পর্যায়ে এমপি হাবিবর রহমান বিএনপি নেতা জ্যোতিকে হত্যার জন্য পুলিশের সাথে পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শেরপুর থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মথুরাপুর-চান্দাইকোনা সড়কের চারমাথা এলাকা থেকে শফিউর রহমান জ্যোতিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরিবারের লোকজন শেরপুর থানা ও বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে শফিউর রহমান জ্যোতিকে পাননি।
এ অবস্থায় ওই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানতে পারে ৩০ এপ্রিল রাতে শফিউর রহমান জ্যোতিকে গুলি করে হত্যা করেছে। ২০১৯ সালের ৩ মে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মায়না তদন্ত শেষে শফিউর রহমান জ্যোতির মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে।
সে সময় পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা দিতে গেলে তা নেওয়া হয়নি। এখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হওয়ায় মামলাটি করলেন বলে বাদি মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এ সংক্রান্ত কোন মামলা থানায় রেকর্ড হয়েছে কিনা তা জানাতে ধুনট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মামলার ৯নং আসামি তৎকালীন শেরপর থানার ওসি, তদন্ত (বর্তমান গাইবান্ধা জেলা ডিবি’র ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, শফিউর রহমান জ্যোতি চরপন্থী দলের আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে ধুনট-শেরপুর সড়কের বোয়ালকান্দি সেতু এলাকায় চরমপন্থী দলের দু’গ্রুপের মধ্যে বন্ধুকযুদ্ধে শফিউর রহমান জ্যোতি মারা গেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা ছিল।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানান, আদালতে এ ধরণের একটি মামলা দায়েরের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনছি। এ সংক্রান্ত মামলার কোন নথিপত্র থানায় আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply