বগুড়াপোস্ট ডেস্ক
দীর্ঘদিন অবহেলিত খাগড়াছড়ির কারিগর পাড়া ও রেজামনি পাড়া গ্রামের মানুষের জীবনে এসেছে নতুন আলো। বিদ্যুৎ, রাস্তা ও বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই গ্রামের উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ মানবিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর নির্দেশদাতা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বর্তমানে প্রশংসার কেন্দ্রে রয়েছেন।
প্রায় তিন মাস আগে রেজামনি পাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনে এসে সেনাপ্রধান স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তারা রাস্তা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সেনাপ্রধান দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
সোলার প্যানেল প্রকল্পে বিশুদ্ধ পানি
সেনাপ্রধানের নির্দেশে হাতে নেয়া হয় সোলার প্যানেল প্রকল্প। গত ১ জুলাই থেকে কাজ শুরু হয়, যা ১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজলক্ষ্মী অ্যান্ড রাজ পিউ ইঞ্জিনিয়ারিং সল্যুশন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। এলাকায় দুটি ১ হাজার লিটারের এবং একটি ২ হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি বসানো হচ্ছে। ফলে ৫ শতাধিক মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পাবেন, যা তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনবে।
দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা
সেনাবাহিনী শুধু সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক নির্মাণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে সহায়তা এবং পর্যটন শিল্প বিকাশেও সেনাবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা
এ ছাড়া ১ নম্বর খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয়রা। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে সেনাবাহিনী ১৯ হাজার ৯১২ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১২ হাজার ৫৫৪ জন এবং বাঙালি ৭ হাজার ৩৫৮ জন।
স্থানীয়দের প্রশংসা
স্থানীয়রা বলছেন, সেনাবাহিনী এখন শুধু সীমান্তের প্রহরী নয়, বরং দুর্গম পাহাড়ি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম পথপ্রদর্শক প্রতিষ্ঠান। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের উদ্যোগে তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
Leave a Reply