1. admin@bogurapost.com : admin :
সেনাপ্রধানের এড্রেসে অংশগ্রহণকারী জনৈক অফিসারের অনুভূতির বর্ণনা.. - BoguraPost
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়ায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় শ্রমিকদলের বহিস্কৃত নেতা লিটন শেখ বাঘার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ভিন্নমতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি: মির্জা ফখরুল বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ দিনমজুর নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি বগুড়া কানছগাড়ি বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম সম্পাদক রকি নির্বাচিত চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম ১৪১৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল অনুমোদন: বগুড়া জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী বগুড়ায় ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষ মেলা শুরু

সেনাপ্রধানের এড্রেসে অংশগ্রহণকারী জনৈক অফিসারের অনুভূতির বর্ণনা..

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৫৯ বার

বগুড়াপোস্ট ডেস্ক

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অফিসার্স এড্রেসে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে ঢাকা ও মিরপুর সেনানিবাসের কর্মকর্তারা সর্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যান্য ফরমেশন, বিভিন্ন মিশন ও ইউএন মিশনের অফিসাররা ভিটিসির মাধ্যমে উক্ত এড্রেসে সংযুক্ত ছিলেন।

নিম্নে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী জনৈক অফিসারের অনুভূতির বর্ণনা বাংলাদেশ গার্ডিয়ানের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

চিফ মানুষটা একদম ভালো না। রাগ, অভিমান, ক্ষোভ, ঘৃণা সবকিছুকে একদম ম্লান করে ফেলেন। গত কয়েকদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার শুনতে শুনতে কাজের স্পৃহা একদম হারিয়ে ফেলেছিলাম। বারবার ভাবছিলাম, কেন করব? কী হবে করে? কার জন্য করব? পরিবারকে সবটুকু সময় দিলাম। এর মাঝে আদেশ পেলাম যে আজ সেনাপ্রধান সকল অফিসারদেরকে এড্রেস করবেন। কী কী বলবেন, কী হতে যাচ্ছে তার মোটামুটি একটা ধারণা সোশ্যাল মিডিয়ায় পেয়েও গেলাম। যাই হোক, আজ অফিসার এড্রেস থেকে ফিরে এসে মনে হলো ডিউটিতে যাওয়ার আগে আজ কী বললেন সেনাপ্রধান তা জানিয়ে দিই সবাইকে।

ঠিক করছি কিনা জানি না, তবে  এই অফিসিয়াল সিক্রেট বলার পেছনে আমার অবশ্য একটা যুক্তি আছে। সবশেষে সেটা বলবো, তার আগে বলি কী হলো আজকে।

চিফ প্রথমেই ধন্যবাদ দিলেন সেনাবাহিনীর সবাইকে নিরলসভাবে এখন পর্যন্ত কাজ করার জন্য। তিনি বললেন, “আমি বিশ্বাস করি যে  দেশ ও জাতি আমাদের এই অবদান আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।” তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দিলেন এ কারণে যে, এতো প্রভোকেশনের পরেও আমরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি সেজন্য। বললেন, “রিঅ্যাক্ট করো না। নবীর হাদিসে আছে রাগকে দমন করতে হয়।” আমি ভেবে পাই না, এতো কিছুর পরও তার মধ্যে কোনো রাগ নেই, অভিযোগ নেই। বললেন, “আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আমাদের দায়িত্ব স্ট্যাবিলিটি অর্জনের মাধ্যমে দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা আনতে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা। দেশ এবং সেনাবাহিনীর আইন ও নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ও মেনে চলা। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।” বললেন, “মনে রাখবে- এটা করতে পারাই আমাদের বিজয়। আর এই কাজ করবে সততা, পরিশ্রম, প্রত্যয় ও সহনশীলতার সাথে।”

চিফ বললেন, “কোনো প্রকার প্রভোকেশনে রিঅ্যাক্ট করো না। আমার সৈনিকদেরকেও বলবে এই কথা। প্রজ্ঞা দিয়ে কাজ করো। দেশ ও জাতি আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আর সেটা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।” আমি জানি না, এতো সহনশীলতা তিনি কোথা থেকে পান।

ইউএন’র সেক্রেটারি জেনারেল সেনাপ্রধানের সাথে সাক্ষাতে ইউএন মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসাসহ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে ০৫ আগস্ট ২০২৪ এ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর অনন্য ও পেশাদারী ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, “অস্থিতিশীল কোনো পরিস্থিতিই দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে গণতন্ত্রই আমাদের শেষ ভরসা। আর এই গণতন্ত্রে যিনি নেতা নির্বাচিত হবেন, তিনি এই দেশের জন্যই কাজ করবেন। আমাদের সবাইকে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পেশা নির্বিশেষে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” আমি ভেবে অবাক হই, বাইরে সবাই তাকে কী ভাবেন, আর তিনি আসলে কী।

এরপর চিফ বললেন সেনাবাহিনীর মধ্যে একতা নিয়ে। আর আমি  সবচেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছি এখানেই। তিনি বললেন, “তোমরা সবাই এক থেকো। মনে রাখবে- আমরা যদি এক থাকি, আমাদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। আর আমাদের ক্ষতি যদি কেউ না করতে পারে তাহলে এই দেশ ও জনগণের ক্ষতিও কেউ করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে এই সময়কে সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল সময় বানাবো। তোমরা শুধু সৎ থেকো আর সুবিচার করো। দেশ ও জাতি সবার আগে। আমি বিগত বছরগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিসংখ্যান নিয়ে দেখেছি এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো আছে এবং আমাদের আরো ভালো করতে হবে। যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাইক্লোজিকাল ইস্যু আমাদের জনগণকে মাঝে মাঝেই আতঙ্কিত করে। এটাকে ম্যানেজ করাও আমাদের দায়িত্ব।” হায় সেলুকাস! বাইরের মানুষ তাকে নিয়ে কী ভাবে, আর আমরা কী দেখি। বিশ্বাস করুন, এক বিন্দু বানিয়ে বলছি না।

এরপর সেনাপ্রধান সবাইকে বললেন, “তোমরা কোনো কাজে যাওয়ার আগে জেনে-বুঝে নেবে কী করতে যাচ্ছ, ঠিক নাকি ভুল। এক্ট ডিসাইসিভ। যেখানেই যাবে, কাজ করবে।”

চিফ বলেন, “আমরা আহত ছাত্রদের সাপোর্ট করছি। তাদেরকে আমরা সারাদেশে সকল সিএমএইচে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। খুব শীঘ্রই ৭২ জনকে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা করবো। গতকাল আমরা তাদের সাথে ইফতার করেছি ঢাকাতে। এভাবে সকল ডিভিশনেও ইফতারের আয়োজন করা হবে। আমরা সবাই তাদের যত্ন নেবো, তাদের কাজকে রিকগনাইজ করবো।”

আমি ব্যক্তিগতভাবে চিফের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। ওদের জন্য এই জাতির এখনও অনেক কিছু করার বাকি।

সেনাপ্রধান এরপর ১০ পদাতিক ডিভিশনকে ইউএন’র সেক্রেটারি জেনারেলের রোহিঙ্গাদের সাথে সফল বিশাল ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।

তিনি জানান, “অবসরপ্রাপ্তদের আবেদনের ভিত্তিতে আমরা একটা রিভিউ বোর্ড করেছি। সেখান থেকে বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের জন্য প্রোমোশনসহ ১৫০ কোটির মতো কম্পেনসেশন প্রপোজ করেছি। আমি আশাবাদী যে এই কম্পেনসেশন সরকার গুরুত্বের সাথে বিচার করে অনুমোদন দেবেন।”

সত্যি বলতে কি আমি ব্যক্তিগতভাবে সেনাপ্রধানের ধৈর্য দেখে অবাক হয়েছি। এতো প্রোপাগান্ডা আর গুজবের মাঝেও তিনি এতটা ঠান্ডা থাকেন কিভাবে।

তিনি বলেন, “ডিজইনফরমেশন, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা আর গুজব হতেই থাকবে। তোমরা ইউনাইটেড থেকো। মনে সংশয়, অনুমান, সন্দেহ রেখো না। যদি কোনো কিছু নিয়ে সংশয় হয়, কমান্ডের কাছে ক্ল্যারিফিকেশন চাইবে। আমার সৈনিকদেরও একই কথা জানিয়ে দেবে। আমরা নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করবো। আমি তোমাদের বলে দেবো কী করতে হবে। কিভাবে করবে তা তোমরা তোমাদের প্রজ্ঞা দিয়ে করবে। কাজ করার সময়ে  আন্ডারকমাণ্ডদের ফ্লেক্সিবিলিটি  দেবে।”

সবশেষে সেনাপ্রধান বলেন, “আমরা একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আল্লাহ যেকোনো সংকটে ধৈর্য ধারণ করে কাজ করে যেতে বলেছেন। আমি চাই তোমরা তাই করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের দেখবেন। আমি জানি অনেকেই সীমা অতিক্রম করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচারণ করছে। আমরা সেগুলোকে প্রফেশনালি ডিল করবো। তোমরা কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না, কাউকে মারধর করবে না। আমি চাই না আমার সেনাবাহিনীর কাউকে কেউ মন্দ বলুক। রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। Be Professional.

সবশেষে তোমাদের সবাইকে ও তোমাদের পরিবারের সবাইকে অগ্রীম ঈদের শুভেচ্ছা। আর মনে রাখবেঃ
Restrain… Restrain. Restrain
Ethics….. Ethics…… Ethics
Justice….Justice… Justice
Passion for the people & for the country…… Passion for the people & for the country….. Passion for the people & for the country Forgive…..Forgive… Forgive আল্লাহ এটা  পছন্দ করেন। নিশ্চিত থেকো আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং সাহায্য করবেন”।

এইসব লিখতে লিখতেই ইউনিফর্মটা রেডি করে নিয়েছি। আবার কাজে যেতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য এখনও অনেক কিছু করার বাকি। শুধু সেনাপ্রধানকে কিছু কথা বলতে চাই, ‘স্যার, আপনার কথায় আবার পুনঃউদ্যমে কাজে নামছি। পরিবারের সাথে আজও ইফতার বা সেহরি কোনোটাই করা হবে না। আক্ষেপ নেই। আমরা বিশ্বাস করি, এই সেনাবাহিনী ও সফল সেনাসদস্যদের সম্মান যাতে সমুন্নত থাকে আপনি তার জন্য কাজ করে যাবেন। আমরা চাই আপনি সেনাবাহিনীকে সেভাবেই লিড করবেন যাতে এই দেশ ও জাতি আমাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখে।’

এই লেখার শুরুতে বলেছিলাম যে কেন এই অফিসিয়াল সিক্রেট বলছি তার পেছনে আমার একটা যুক্তি আছে। কাল থেকে দেখছি, এই এড্রেসকে ঘিরে অনেকেই ইন্দোনেশিয়া, কাতার, উগান্ডার এপিসি আর ট্যাঙ্ক স্টার্ট দিয়ে বসে আছেন সেই কবে থেকে। ভাই, ইঞ্জিন থামান, অনেক তেল খরচ করেছেন। এই বছরের ফিতরা এখনও দিইনি। গোপনে যোগাযোগ করবেন, তেলের পয়সাটা দিয়ে দেব। আর্মিতে বিভক্তি করা এতো সহজ না। আমরা এক আছি এবং থাকবো। কাজ হবে শুধু দেশ আর জাতির জন্য। আপাতত এক বালতি সমবেদনা নিয়ে রাস্তা মাপেন। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন, Gone are the days, you will ever be able to make my Army fool again..

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024 by Bogurapost
Theme Customized By BreakingNews