নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় হত্যা ও ডাকাতির মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-১২ ও র্যাব-২, মোহাম্মদপুর এর যৌথ অভিযানে রোববার বিকেলে জেলার সোনাতলা থানাধীন কলেজ স্টেশনের সামনে থেকে আসামী মোঃ সোহেল (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেসবিফ্রিং র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি কমান্ডার( পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেন এস তথ্য জানান। গ্রেপ্তার সোহেল জয়পুরহাট জেলার পাচবিবি উপজেলার জোড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
র্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার আরও জানান, বগুড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পাঁচবিবি থানার মামলা নং-১৯, জিআর-১৬৫/২০০৯ এবং দায়রা মামলা নং-৩০০/২০২০ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ এর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামী বগুড়া জেলার সোনাতলা থানা এলাকায় অবস্থান করছে। এই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জুলাই পৌনে ৪ টায় র্যাব-২, সিপিসি-১, মোহাম্মদপুর এর যৌথ অভিযানে বগুড়া জেলার সোনাতলা থানাধীন কলেজ স্টেশনের সামনে অভিযান পরিচালনা করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মোঃ সোহেল কে গ্রেফতার করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, অত্র মামলার ভিকটিম আলী হাসান @ বাবু (প্রভাষক শহরগাছী আদর্শ মহাবিদ্যালয়, গোবিন্দগঞ্জ) শিক্ষকতার পাশাপাশি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার পাইকর দড়িয়া গ্রামস্থ ইটের দরগা নামক স্থানে স্টক ব্যবসা করতো। গত ১৮/০৬/২০০৯ ইং তারিখে যথারীতি ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাসা যাওয়ার পথে রাত্রি অনুমান ১০৩৫ ঘটিকার সময় কাকরা ব্রিজ নামক স্থানে দুস্কৃতিকারীরা আসামীগণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রাস্তায় রশি দ্বারা ভিকটিমকে আটকায়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে মারপিটসহ খুন করে ব্রীজ হতে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে হারামতি নদীর মধ্যে মৃতদেহসহ মোটরসাইকেলটি পানিতে ফেলে দেয়। দুস্কৃতিকারীরা ভিকটিমের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ভাই, ছেলে ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন খোঁজাখুজি করে পাইকর দড়িয়া কাকড়া ব্রীজ হতে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে হারামতি নদীর মধ্যে মৃতদেহসহ মোটরসাইকেলটি খুঁজিয়ে পায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্র মামলার সন্দিগ্ধ আসামী আসাদুলকে দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানা হতে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামী আসাদুল জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানিয়েছিল যে, ১৭/০৬/২০০৯ ইং তারিখ দিবাগত রাত্রিবেলায় সাড়ে ১০টার সময় ভিকটিম মোটরসাইকেলসহ কাকরা ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে পৌঁছলে ধৃত আসামী সোহেলসহ অন্যান্য আসামীগণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রাস্তায় রশি দ্বারা ভিকটিমকে আটকায়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে গলায় রশি পেচিয়ে মারপিটসহ খুন করে। উক্ত ঘটনায় চিৎকার শুনিয়া স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকলে আসামীগণ ব্রীজ হতে আনুমানিক ১০০ গজ দূরে হারামতি নামক নদীর মধ্যে মৃতদেহসহ মোটরসাইকেলটি পানিতে ফেলে দেয় এবং ভিকটিমের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। অত্র মামলার বিচারকাজ শেষে বিজ্ঞ আদালত চলতি মাসের ৩ তারিখে আসামী সোহেলকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তর করা হবে।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply