নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়াম লীগ সরকারের পতনের পর দেশে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার, পাশাপাশি এসব সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও পুনর্বাসনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশ বগুড়া শহরের সাতমাথায় রোববার বেলা ১২ টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ২ টা পর্যন্ত চলে।
এ বিক্ষোভ সমাবেশে ঘোষিত দাবি সমুহ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বগুড়া শাখার সভাপতি ডাঃ এনসি বাড়ই , সাধারণ সম্পাদক তাপস নিয়োগী, জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল রায , পৌর কমিটির সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ, সংগঠক ডাঃ সুজিত তালুকদার, সমর দাস, বিধান প্রমুখ।
এ বিক্ষোভ সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও অংশ নেয়।
সমাবেশ চলার সময় সাতমাথা ও আশপাশের সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভ সমাবেশে কারও হাতে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত পোস্টার, কারও মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ‘দেশটা আজও স্বাধীন নয়, আমার মন্দিরে হামলা হয়’, ‘হিন্দুদের নিরাপত্তা চাই’, ‘স্বাধীন দেশে সংখ্যালঘুরা স্বাধীন না কেন’, ‘মন্দিরে হামলা কেন? জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘প্লিজ সেভ বাংলাদেশি হিন্দু’, ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা চাই, আমরা কেন স্বাধীন নাই’ প্রভৃতি।
স্লোগান ও করতালিতেও সমাবেশস্থল উত্তাল ছিল। স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘আমার মাটি আমার মা, বাংলাদেশ ছাড়ব না’, ‘যারা বলে বাংলা ছাড়, দেশটা কি তার বাপ-দাদার’, ‘আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘মন্দিরে হামলা কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘জ্বালাও–পোড়াও বন্ধ করো, মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো’, ‘তুমি কে, আমি কে, বাঙালি বাঙালি’ প্রভৃতি।
সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দ্রুত বিচার, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনসহ আরও যেসব দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অনতিবিলম্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা, সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে হিন্দু ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকেও ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা, দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করা, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন করা, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘুদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ এবং প্রতিটি হোস্টেলে প্রার্থনাকক্ষ বরাদ্দ করা, সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড আধুনিকায়ন করা, শারদীয় দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply