নিজস্ব প্রতিবেদক
রহমত, বরকত, ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসে গেছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। তারাবি নামাজের মধ্য দিয়ে শনিবার (১ মার্চ) রাত থেকে শুরু হয়েছে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম তারাবিকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ পাড়া-মহল্লার মসজিদেও ঢল নেমেছে মুসল্লিদের। পাশাপাশি সারাদেশের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ পাড়া-মহল্লার মসজিদেও তিল ধারণের জায়গা নেই। কোনো কোনো মসজিদের আঙিনা ছাড়িয়ে রাস্তায় জায়নামাজ, চাদর ও পাটি বিছিয়েও মুসল্লিদের তারাবির নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।
বায়তুল মোকাররমে দেখা গেছে, এশার নামাজ শুরুর আগে থেকেই মুসল্লিরা মসজিদে এসে সারিবদ্ধভাবে বসেছেন। মুসল্লিদের অনেকেই জায়নামাজ আর তসবিহ নিয়ে এসেছেন। অনেকে আবার নামাজের আগে নিজে আতর নিচ্ছেন এবং পরিচিতদের দিচ্ছেন। অন্যদিকে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রবেশ মুখে বসেছে অস্থায়ী আতর ও টুপির দোকান।
খুলনায় পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম তারাবিতে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দীর্ঘ এক বছর পর আবারো মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি মুসল্লিরাও।
সন্ধ্যার পর থেকেই খুলনার বিভিন্ন মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের ভিড় বাড়তে থাকে। কোথাও কোথাও দলবেঁধে, কোথাও পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে তারাবিহ নামাজ আদায়ে মসজিদে আসেন। খুলনার সব মসজিদই অল্প সময়ে পূর্ণ হয়ে যায়। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ ও বাংলাদেশের জন্য দোয়া করেন ইমামরা।
সিলেটেও ধর্মপ্রাণ মানুষ আদায় করছেন তারাবির নামাজ। হজরত শাহজালাল (র.)-এর দরগাহ মসজিদে তারাবিহ নামাজে অংশ নেন অসংখ্য মুসল্লি। একই সঙ্গে সিলেটের সব মসজিদেও মুসল্লিরা তারাবির জামাতে অংশ নেন।
তারাবি পড়তে চট্টগ্রামের মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বয়োবৃদ্ধ মুসল্লিদের সাঙ্গে শিশু-কিশোরও শামিল হয়েছে নামাজে।
রোববার প্রথম রোজা উপলক্ষে শনিবার (১ মার্চ) বাদ এশার পর চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক জামে মসজিদে তারাবি নামাজ শুরু হয়। দূর-দূরান্ত থেকে এখানে নামাজ পড়তে এসেছেন অনেক মুসল্লি। মসজিদের ভেতরে-বাইরে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়।
এদিকে, প্রতি বছরের মতো এবারো রমজান মাসে মসজিদে খতমে তারাবি পড়ানোর বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নির্দেশনা অনুযায়ী, তারাবির নামাজে প্রথম ছয় রমজানে কোরআন শরীফের দেড় পারা এবং পরবর্তী ২১ দিন এক পারা করে পাঠ করতে হবে।
সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে বিরাজ করছে রোজার আমেজ। ভোরে সেহরি খেয়ে এবারের প্রথম রোজা রাখবেন মুসল্লিরা।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল ২ মার্চ রোববার থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ২৬ রমজান (২৭ মার্চ) পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মাস রমজান। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। এছাড়া মর্যাদাবান এই মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। সবশেষ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানরা উদযাপন করবেন ঈদুল ফিতর।
Leave a Reply