বগুড়াপোস্ট
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হতে পারে এ বছরই। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল-সংক্রান্ত পৃথক আবেদন সম্প্রতি হাইকোর্টে শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে।
চলতি বছরই এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তি হবে বলে মনে করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সমকালকে তিনি বলেন, মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় রয়েছে। আগামী মাসের শেষদিকে শুনানি শুরু হতে পারে। একরাম হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরেও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এর মধ্যে আটজন জামিনে মুক্ত হয়ে এবং আটজন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক। অধিকাংশ আসামি দেশের বাইরে বলে দাবি পুলিশের।
আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন একরামুল হকের বড় ভাই ও মামলার বাদী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে আসামিদের দেশে এনে রায় কার্যকর করা হোক। নয়তো ন্যায়বিচার থমকে থাকবে। একরামুল হকের তিন শিশুসন্তান পড়াশোনা করছে। তাদের জন্য হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হোক।’
২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামকে গুলি করে, কুপিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁর বড় ভাই জসিম উদ্দিন হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ মামলার রায় দেন ফেনীর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আমিনুল হক। রায়ে ৩৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনারসহ ১৬ জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধের কারণেই একরামকে হত্যা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও জেল আপিল করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পেপারবুক তৈরির পর চাঞ্চল্যকর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে কার্যতালিকাভুক্ত হয়েছে।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৩ জন কারাগারে। পলাতক ১৬ আসামি হলো– জাহিদ হোসেন জিহাদ, আবিদুল ইসলাম আবিদ, নাফিজ উদ্দিন অনিক, আরমান হোসেন কাউসার, জাহেদুল হাসেম সৈকত, জসিম উদ্দিন নয়ন, এমরান হোসেন রাসেল ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল, এরফান ওরফে আজাদ, একরাম হোসেন ওরফে আকরাম, শফিকুর রহমান ওরফে ময়না, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, মোসলে উদ্দিন আসিফ, ইসমাইল হোসেন ছুট্টু, মহিউদ্দিন আনিস, বাবলু ও টিটু।
ফেনী সদর মডেল থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে ওয়ারেন্ট আছে, কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া আসামিদের সাজা নিশ্চিতে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ, যার শুনানিও ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির সময় হবে। এ বিষয়ে আসামিপক্ষের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘আমরা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছি। হাইকোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে।
caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260caller_get_posts is deprecated. Use ignore_sticky_posts instead. in /home/bogurapo/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
Leave a Reply