নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণসহ হয়রানিমূলক বদলি প্রদানের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বগুড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে বলেন বিগত জোট সরকারের আমলে মডেল প্রজেক্টের অধীনে প্রতিষ্ঠিত দেশব্যাপী ১১টি মডেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজ’ একটি। বর্তমানে যা বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া নামে পরিচিত। তৎকালীন জোট সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট ২০০৩ বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মৌজায় ‘বগুড়া মডেল স্কুলে’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান ২৬ জুন ২০০৫ ‘বগুড়া মডেল স্কুলে’র শুভ উদ্বোধন করেন। ২০০৬ সালে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) কর্মকর্তাদের নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও সুখ্যাতি বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বগুড়াবাসীকে অবাক ও হতাশ করে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পের অধীনে নয়টি প্রতিষ্ঠান রেখে বগুড়া মডেলকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের অধীনে নাস্ত করে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পিছনে বিয়ান ফাউন্ডেশনের কোনো অবদান কিংবা ভূমিকা নেই। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীদের দেওয়া সেশন ফি ও মাসিক বেতন বাবদ আয় থেকে। প্রতিষ্ঠানের আয়ের ২৫% প্রতি বছর বিয়াম ফাউন্ডেশকে দিতে হয়। এ ছাড়াও বিয়াম ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি বছর খাতা, ডাইরি ও অন্যান্য উপকরণ শিক্ষার্থীদের কিনতে হয়। এ বাবদ প্রতি বছর বিয়াম ফাউন্ডেশনকে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা দিতে হয়। এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১৮০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। বিগত ১৯বছর যাবৎ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বিভিন্ন ন্যায্য বেতন-ভাতা, পদোন্নতি, গ্রাচুয়িটিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং ব্যাপকভাবে বৈষম্যে শিকার হচ্ছে।
বিগত ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ সালে ১১টি মডেল স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সংশ্লেষসহ একটি প্রস্তাব প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলে, অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান আর্থিক সংশ্লেষসহ যাবতীয় তথ্যাদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন বলে আমাদের জানান। কিন্তু বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজ (বর্তমান-বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া) কে বাদ দিয়ে প্রকল্পের ১১টির মধ্যে ৯টি মডেল বিদ্যালয়কে রাজস্ব খাতে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তিনি আদৌ সেই আর্থিক সংশ্লেষসহ যাবতীয় তথ্যাদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে কিনা আমরা সন্দেহাতীত। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ না হলে বগুড়াবাসীসহ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের বিভিন্ন ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হবে।
এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামি ৩মে, ২০২৫ তারিখ শনিবার সাতমাথায় বেলা ১১:০০টা থেকে ১২:০০টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষরতা কর্মসূচি পালন এবং আগামি ৪মে, ২০২৫ তারিখ রবিবার জেলা প্রশাসক ও পরিচালক, আঞ্চলিক কেন্দ্র, বিয়াম ফাউন্ডেশন বগুড়া বরাবর স্বারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এই কর্মসূচিতে বগুড়া জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণকে বৃহত্তর স্বার্থে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করে এই কর্মসূচিগুলোকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সহযোগিতা কামনা করছি।
আমাদের দাবিসমুহ
১. বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ বগুড়া’কে সরকারিকরণ করতে হবে।
২. হয়রানিমূলক বদলি বাতিল করতে হবে।
৩. ৬ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে।
অন্যধায়, আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলমান থাকবে।
Leave a Reply